সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

জীয়ন আবার প্রেমে পড়েছে।

জীয়ন আবার প্রেমে পড়েছে।

জ্বি না, ভুল পড়েননি। "আবার" শব্দটা এখানে প্রকৃত অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। আমার জানামতে, তার সাড়ে তিন বছরের জীবনে এটা চতুর্থ প্রেম!

তার নতুন প্রেমিকার নাম সঙ্গত কারণেই গোপন করে লেখাটা লিখছি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের একটা মেয়ে আমার বখাটে ছেলের কারণে এই বয়সেই স্ক্যাণ্ডালের শিকার হোক, সে তো আমি হতে দিতে পারিনা, তাই না?

ধরে নিন, মেয়েটার নাম মাইশা। আর, এর আগে যে মেয়েটা'কে জীয়নের ভালো লাগত, ধরে নিন তার নাম অহনা।

সেদিন বিকালে ...

আমি - "আজকে স্কুলে কার পাশে বসেছিলি বাবা?"

জীয়ন (মুখে চোরা চোরা হাসি) - "মাইশার পাশে।"

আমি (কিঞ্চিত অবাক) - "কেন? অহনার কি হল? ওর পাশে আর বসিশ না?"

জীয়ন (নির্লিপ্ত মুখে) - "নাহ! আর ভাল্লাগে না।"

আমি - "মানে কি? এখন তাহলে কাকে ভাল্লাগে?"

জীয়ন (লজ্জায় নুয়ে পড়ে) - "মাইশাকে।"

আমি - "মাইশা তোকে পছন্দ করে?"

জীয়ন (লজ্জায় পুরাই গদগদ) - "মনে হয়।"

আমি (কপট বিরক্তির ভান করে) - "আমার কিন্তু অহনাকেই বেশী পছন্দ ছিল। কি সুন্দর একটা নাম। মাইশা নামটা খুব একটা সুন্দর না।"

জীয়ন গভীর মনোযোগের সাথে টম অ্যান্ড জেরি দেখতে লাগল। আমি কথাটা আরেকবার বললাম। কিন্তু সে জবাব দেয়ার কোন প্রয়োজনই উপলব্ধি করলো না।

রাত ১১টা বাজে। আমাদের রুমে আমি আর আমার বউ টিভি দেখছি।

দরজা খুলে জীয়নের প্রবেশ। আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বেশ গম্ভীর মুখে বলল -

"রাজীব নামটা আরও পচা। অনেক বেশী পচা।"

কথাটা বলে সে উল্টাদিকে ফিরে গটগট করে নিজের রুমে ঘুমাতে চলে গেলো।

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

"মেজবানি মসলা"

১।

মাঝে মাঝে স্মার্ট ফোনের পাকনামি দেখলে গা জ্বলে।

আমার বাসার মানুষজন ইদানীং ইন্টারনেট'এ বাজার করে। চাল-ডাল ডট কম থেকে। ডাইনিং টেবিলে বউ ল্যাপটপ নিয়ে বসে। ৫ মিনিট এটা-সেটা ক্লিক করে, ঘণ্টা-খানেক পর ব্যাগভর্তি বাজার বাসায় এসে হাজির। কত্ত মজা :)

আজকে সকালে আমার খালা গল্প করতে করতে বলল তার বাজারে যেতে হবে, "মেজবানি মসলা" কিনতে।

আমার স্মার্ট বউ সাথে সাথে তার "বাজার করার স্মার্ট পদ্ধতি"'র ডেমো দেয়ার চান্স পেয়ে গেলো। অবলা-বেকার আমার উপর ফরমান জারি হল যেন আমি ইন্টারনেট গুঁতিয়ে খালার জন্য "মেজবানি মসলা" খুঁজে দেই।

আমি আমার স্মার্ট ফোনে সার্চ মারলাম "মেজবানি মসলা"...

আমার এই সহজসরল সার্চ স্মার্টফোন-বাবাজির পছন্দ হবে কেন? একটু পাকনামি না করলে ওনার চলে? বলেন?

উনি উল্টা আমাকে প্রশ্ন করলেন ...

"আর ইউ লুকিং ফর মেহজাবিন মসলা?"

লে এইবার। মজা বোঝ ! 

২।

এই গল্পের একটা দ্বিতীয় পর্বও আছে।

বউ'কে গল্পটা বললাম।

বউ কি বলল জানেন?

"আজাইরা ফোনের দোষ দিয়ো না। স্মার্টফোন আসলেই স্মার্ট। যেসব টেক্সট বেশী টাইপ করা হয়, স্মার্টফোন সেগুলাই বারবার সাজেস্ট করে। এইবার আসল কথা বল। তোমার ফোন থেকে ঘনঘন মেহজাবিন সার্চ দেয় কে? হুমমমম???"

লে এইবার। মজা বোঝ !!!  

রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৫

তোমরা আজকে ম্যাচিং ম্যাচিং

জীয়নের কিছু কমন, ফরম্যাটেড প্রশ্ন আছে। যেগুলা সে মোটামুটি সবাইকে করে। 
"তুমি কয় তালায় থাকো?" 
ধরেন, আপনি হাসিমুখে জবাব দিলেন - "চার তালায়" 
ওর নেক্সট প্রশ্নটা হবে - "তুমি তিন তালায় কেন থাকো না?" 
কি জবাব দিবেন আপনি এই প্রশ্নের? হুমম? 
যদি আপনি বলতেন যে আপনি তিন তালায় থাকেন, তাহলে সে প্রশ্ন করতো, "তুমি চার তালায় কেন থাকো না?" 
মাঝেমাঝে সে তার মা'এর ফোন দিয়ে আমাকে অফিসে ফোন করে। 
"বাবা, তুমি কি করো?" 
"কাজ করি বাবা।" 
"ও আচ্ছা। তুমি মিটিং করো না কেন?" 
যদি বলি যে আমি মিটিং করি, ওর অবধারিত প্রশ্ন হতো - "ও আচ্ছা। তুমি কাজ করো না কেন?" 
আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি ওর এইসব ধারাবাহিক প্রশ্নের জবাব দিতে, ওর কৌতূহল প্রশমিত করতে; কিন্তু মাঝে মাঝে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। তখন মনে চায়, তুইলা আছাড় মারি বান্দরটাকে। 
এই ধৈর্যের ব্যাপারে আমার বউ'এর ধারণা হল, তার ধৈর্য বেশী, আমার কম। আমি মিনমিন করে মাঝেমাঝে যুক্তি দাঁড় করাতে চাই যে, ব্যাপারটা আসলে সিচুএশনাল। একেক সময় একেকজনের ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা একেকরকম থাকে। 
যদিও, বউ সেটা মানতে নারাজ। 
গতকালের ঘটনা বলি। 
আমরা বাইরে যাব। রেডি হচ্ছি। 
"মা মা, তুমি কোন কালারের জামা পরবা?" 
"লাল" 
আমি শুয়ে শুয়ে মোবাইল গুতাচ্ছি তখন। বুঝলাম, অবধারিতভাবেই পরবর্তী প্রশ্ন আসবে - "নীল জামা কেন পরবা না মা?" 
কিন্তু বউ আমার অনেক স্মার্ট। সে যেহেতু প্রমাণ করার মুডে আছে যে তার ধৈর্য বেশী, তাই সে অনেক কিউট করে জীয়নকে পাল্টা প্রশ্ন করলো। 
"বল তো বাবা, কেন আজকে আমি নীল জামা পরছি না?" 
ছেলের তুরন্ত জবাব - 
"আমি জাআআআনি। কারণ, আজকে সাইফুল চাচাও লাল গেঞ্জি পরেছে। তোমরা আজকে ম্যাচিং ম্যাচিং।" 
-
-
-
-
-
-
-
আমি শুয়ে শুয়ে ফেইসবুক গুতাই, আর বউ'এর ধৈর্য দেখি
ওহ! বলাই তো হয় নাই, সাইফুল আমার ড্রাইভারের নাম smile emoticon

ত্যানাটা প্যাঁচামু কই?


কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ

প্রথম বন্ধু ঃ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু একটা করা যায় না? মনটা খারাপ লাগছে। 

দ্বিতীয় বন্ধু  ঃ হঠাৎ বাংলাদেশ নিয়ে পরলি ক্যান? এমনিতেই কি ভ্যাজালের শেষ আছে নাকি? 

প্রথম বন্ধু ঃ আরে আজব! একটা দেশের মানুষের উপর এমন অত্যাচার হচ্ছে, চুপ করে বসে থাকব? 

দ্বিতীয় বন্ধু ঃ হুমম, তো প্ল্যানটা কি? কি করতে চাস? 

প্রথম বন্ধু ঃ চল, একটা কন্সার্ট করি। 

দ্বিতীয় বন্ধু ঃ হোয়াট? কন্সার্ট? কন্সার্ট করে কি লাভ? তুই না কইলি ওইখানে অত্যাচার হচ্ছে। ওরা এখন গান শোনার মুডে আছে নাকি? 

প্রথম বন্ধু ঃ ধুর বলদ। ওদের গান শুনানোর জন্য কন্সার্ট করবো, সেইটা বলসি নাকি? প্ল্যান ইজ, আমরা যদি ওদের জন্য একটা কন্সার্ট করি, অনেক মানুষ জানবে যে আমরা ওদের পক্ষে আছি। তাতে যদি ওদের সাহায্য করার জন্য কেউ আগায়ে আসে, তাইলে তো হইলোই। আর যদি নাও আসে, অ্যাট লিস্ট ওই দেশের মানুষগুলা তো একসময় জানতে পারবে যে আমরা এতো দূরে বসেও ওদের জন্য কিছু করতে চাইসিলাম। 

দ্বিতীয় বন্ধু ঃ আইডিয়া খারাপ না। চল তাইলে, বাকিদেরও একটু আওয়াজ দেই। যত বেশী আর্টিস্ট পাবো, তত বেশী আওয়াজ হবে। 

প্রথম বন্ধুর নাম জর্জ হ্যারিসন। দ্বিতীয় বন্ধুর নাম রিংগোস্টার। কন্সার্টটার নাম "কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ" 

এরপর একে একে নাম যোগ হতে থাকলো। বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, রবি শঙ্কর, বিলি প্রেস্টন ... আরও অনেকে। 

ভাগ্যিস এই বন্ধুগুলির মধ্যে কেউ আইতকা বলে ওঠে নাই, "ক্যান রে ভাই হ্যারিসন। বাংলাদেশ নিয়েই কেন? নাইজেরিয়াতে হাজার হাজার মানুষ মরলো, ইন্দোনেশিয়া সয়লাব হয়ে গেলো খুনাখুনি'তে, তখন কেন কিছু করলি না? হুদাই হুজুগে লাফায়ে কনন্ট্রোভারসি ক্রিয়েট করার কি দরকার!"  

ভাগ্যিস, ওরা এমন কিছু বলে নাই। 

তাহলে হয়ত "কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ"টা হতো না। আর কোন ভিন-মুল্লুকের জর্জ হ্যারিসন, রিংগোস্টার'রা  আমাদের হৃদয়ের মাঝখানে একটা জায়গা করেও নিত না। 

--- 

গল্পটা বানানো। ইতিহাসের সাথে হয়তো অনেককিছুই মিলবে না। 

এটা আমার পয়েন্ট অফ ভিউ, অনেকের সাথে নাও মিলতে পারে। সবার মত যদি একই হয়ে যায়, পৃথিবী কিন্তু এক জায়গায় থেমে থাকবে। 

"পয়েন্ট অফ ভিউ" দীর্ঘজীবী হোক। মানবতা বেঁচে থাক। গাজার জন্যও, প্যারিসের জন্যও।

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৫

"বাবা, গাড়ির নাম্বারগুলা এমন হয় কেন?"

জয়ীকে নিয়ে ট্রাফিক সিগনালে বসে আছি।
"বাবা, গাড়ির নাম্বারগুলা এমন হয় কেন?"
"কেমন?"
"এই যে, ঢাকা গ ২৩-১৭৫৯ বা ঢাকা গ ১৯-৮৪৭৫"
"এটাই নিয়ম মা। তোদের যেমন স্কুলে রোল নাম্বার থাকে, এগুলাও তেমন গাড়ির রোল নাম্বার। প্রতিটা যানবাহন একটা নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা থাকে।"
"কিন্তু, আমাদের রোল নাম্বারে তো কোন বর্ণ থাকে না। যেমন আমার রোল ৯। গ-৯ তো না।"
"বর্ণগুলা কোড মামনি। গাড়ি যেহেতু গ দিয়ে শুরু, তাই দেখবি সব গাড়ির শুরুতে গ।"
------
আমার এই নিষ্পাপ ব্যাখ্যার রিঅ্যাকশন যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা কি আমি ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিলাম?
-------
তারপর থেকে ... আমার মেয়ে ঠোঁটের কোণে ফিচেল হাসি নিয়ে যখন তখন আমাকে হাজারও প্রশ্নবাণে চুবিয়ে মারছে।
"বাবা, জানো, আমার একটা ফ্রেন্ড চাইক্রোবাসে করে স্কুলে আসে।"
"বাবা, আমি খেয়াল করে দেখলাম বড় গাড়িগুলির নাম্বার গ দিয়ে শুরু হয় না। ঘ দিয়ে হয়। কারণটা কি জানো? আমি জানি। কারণ হল ... এগুলা যেহেতু বড় গাড়ি, তাই এগুলাকে ঘাড়ি বলে। গ'এর থেকে ঘ বড় না? ছোট কুকুর গেউ গেউ করে ডাকে, বড় কুকুর ঘেউ ঘেউ করে। বাবা, আমরা একটা ঘাড়ি কিনতে পারি না?"
"বাবা, আমরা কিন্তু একটা জিনিসকে ভুলভাবে উচ্চারণ করি। জিনিসটা কিন্তু আসলে থিএনজি, নট সিএনজি। আমি খেয়াল করলাম সব থিএনজির নাম্বার থ দিয়ে শুরু।"
"বুঝলা বাবা, অনেক রিসার্চ করে দেখলাম, মটর সাইকেল কয়েক রকমের আছে। যেগুলা ছোট ওগুলাকে বলে হটরসাইকেল, ওগুলা হ দিয়ে শুরু। বড়গুলা লটরসাইকেল, কারণ, ওগুলা ল দিয়ে শুরু।"
-----
তার রিসার্চ এখনও চলছে। যেদিন বাংলাদেশের সব রকম যানবাহনের কোড'এর শানেনযুল উদ্ধার করা শেষ হবে, ইনশাল্লাহ সেদিন তার এই খেলা বন্ধ হবে।
ততদিনে আমার মাথার শেষ চুলটা অবশিষ্ট থাকলে হয়।


October 17, 2014

মালা বড়ুয়া

১।
আমি নাকি একদিন স্কুল থেকে ফিরে নানু'কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "নানু, মুসলমান ছেলেদের কি হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করা নিষেধ?" নানু খুব অবাক হয়ে জানতে চাইল ঘটনা কি। আমি নাকি তখন বলেছিলাম, "একটা মেয়েকে আমার খুব ভাল লাগে। মেয়েটা আমার ক্লাসে পড়ে। তার নাম রুপা সাহা। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।"
এটা নিয়ে বাসায় নাকি অনেক জল্পনা-কল্পনা, আলাপ-আলোচনা হয়েছিল। এই বয়সে আমার মাথায় বিয়ের চিন্তা কেমনে ঢুকল, হিন্দু-মুসলমান ব্যাপার-স্যাপার'ই বা কেমনে ঢুকল - এসব নিয়ে অনেক ঠাট্টা-মশকরাও হয়েছিল।
বাই দা ওয়ে, আমি তখন নার্সারি'তে পড়তাম। বয়স চার।
২।
জীয়ন সেদিন বলল, "বাবা, জানো, আমার একটা বউ আছে।" আমি আর আমার বউ মহা আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলাম, "তাই নাকি বাবা? কি নাম তোমার বউ'এর?" সে লাজুক চেহারা করে বলল, "মালা বড়ুয়া"।
আমরা অনেক খুঁজলাম। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, টিভি'র ক্যারেক্টার - সব খুঁজেও আমরা "মালা বড়ুয়া" নামে কাউকে খুঁজে পেলাম না।
এই বয়সে কল্পনায় বউ পেয়ে যাওয়া ব্যাপারটা কতটা স্বাভাবিক, সেটা নিয়ে আমরা এখন ক্যাল্কুলেশনে ব্যাস্ত।
বাই দা ওয়ে, জীয়নের বয়স এখন আড়াই।
---
গুড গোয়িং বেটা। বাপের চার বছরের রেকর্ড আড়াই বছরেই ব্রেক করে দিসিশ, ইনশাআল্লাহ তোরে দিয়েই হবে।
---
দুইটা ঘটনাই ১০০% সত্যি। প্রথমটা শোনা ঘটনা। সাক্ষী দেয়ার জন্য মিনিমাম ৫/৬ জন মানুষ পাওয়া যাবে। আর দ্বিতীয়টা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া; ইন ফ্যাক্ট একদমই গরম গরম ঘটনা। কাহিনী এখনও চলছে।

October 19, 2014