সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪

শুভ নববর্ষ

দু'চোখ দিয়ে আমরা কখনো আগামী দেখতে পাই না।  আমাদের এক চোখ ব্যস্ত থাকে পিছনে দেখার জন্যে।  আমরা যে পিছন থেকে ছুরি মারতে ওস্তাদ। 

চলার পথের কাঁটা সরাতে আমরা কখনো দুই হাত একসাথে ব্যবহার করতে পারি না।  এক হাত ব্যস্ত থাকে নিজের পশ্চাদ্দেশ আড়াল করে রাখতে।  জানেনই তো, আপনজনের *** মেরে আমরা বড্ড বেশি আনন্দ পাই।  

আমাদের দুই পা কিন্তু একটানা সামনের দিকে হাঁটতে পারে না।  আমরা ৩ পা এগুলে ২ পা পিছাই।  অভ্যাসই বলেন বা খাসলত - ইহাই আমাদের গর্বিত করে রেখেছে জাতি হিসেবে।  

আমাদের দুই কান কখনো একসাথে কাজ করে না। এক কান দিয়ে যদি কাজের কথা ঢোকে, অন্য কান হয় ব্যস্ত থেকে কাজের কথাটাকে সসম্মানে বের করে দিতে; অথবা ব্যস্ত থাকে মহা-অকাজের কোনো কথাকে মগজের ভিতরে সাদরে অভ্যর্থনা জানাতে।  

এবার কিছু ভালো কথা বলি।  

এক হাত দিয়ে পাছু ঢাকতে ঢাকতেও আমরা কিন্তু ঠিকই এভারেস্টে পৌঁছে গেছি। এক চোখে দেখেও হয়েছি বিশ্বের সেরা ক্রিকেট অলরাউন্ডার, খুঁজে পেয়েছি পাটের জীন-তত্ব, এসেছে নোবেল প্রাইজ। আমাদের সিনেমা, বিজ্ঞাপন, স্পোর্টস এনেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।  অর্থনৈতিকভাবে হয়েছি আগের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।  তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ৩ ফুট উঠে আর ২ ফুট করে পিছলে নামা  সত্বেও ঠিকভাবেই কিন্তু আয়োজন করেছি টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ, প্রশংসা কুড়িয়েছি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। শুধুমাত্র আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর হাড়জিরজিরে দরিদ্র মানুষের ছবিই কিন্তু দেখে না এখন বহির্বিশ্ব - তাদের চোখে পরার মত নানান উপলক্ষ এখন নিয়মিতই জন্ম দিয়ে যাচ্ছি আমরা। 

এবার একটু ভাবুন তো। এক হাতে, এক চোখে বা এক পায়ে - মোটকথা অর্ধেক শক্তি ব্যবহার করেই যদি একটা দেশ এভাবে এগিয়ে যেতে পারে, পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে আমরা কোথায় উঠে যাব! 

শুভ নববর্ষ সবাইকে। চাওয়া একটাই, হাত-পা-চোখ-কান-মাথা-আমি-আপনি-আমরা সবাই ----  ১৪২১'এ যার যা কাজ, তা যেন ঠিকঠিক ভাবে করতে পারি।  

বুধবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৪

দাঁতের এক্সরে

"ভাইয়া, ইইইই করেন।"

আমি দাঁত বের করে ইইইই করলাম। 

"এইবার এই ছোট প্লেটটা কামড় দিয়ে ধরেন।" 

আমি কালো রঙের প্লাস্টিকের চারকোনা একটা প্লেট কামড় দিয়ে ধরলাম। 

"বাহ্, এবার এভাবেই থাকেন কিছুক্ষণ।" 

একথা বলে  ভাইজান পাশে দাঁড়ানো দুই আপু'র দিকে তাকালেন। 

"ভালো মত খেয়াল করেন আপুরা, দাঁতের এক্সরে করার সময় রুগীর দাঁতের পজিশনটা ভেরি ইমপোর্টেন্ট। সবসময় চেষ্টা করবেন রুগী যেন ইইইই করে দাঁত বের করে রাখে। বেস্ট উদাহরণ কোনটা জানেন? গুগলে শিম্পাঞ্জি লাফিং বলে পিক সার্চ দিলে দেখবেন কিছু দাঁত বের করা বান্দরের ছবি আসে।  চেষ্টা করবেন রুগীর দাঁতের পজিশন যেন ঠিক তেমন থাকে। সবারটা হয়ত একদম পারফেক্ট হয় না, বাট চেষ্টা করবেন যেন যত বেশি পারফেক্ট করা যায়।"

আপু দু'জন আমার দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে ওঠে। তারা মনে হয় জুনিয়র ডেন্টিস্ট, হাতে-কলমে দাঁতের এক্সরে করা দেখতে এসেছেন। একজন সুন্দরী। আরেকজন মারকাটারি লেভেলের সুন্দরী। 

আমি ইইইই-রত অবস্থায় তাদের দিকে তাকিয়ে একটা বেকুব হাসি দেই।  

ডেন্টিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইজান আমার দিকে তাকিয়ে আশ্বস্ত করেন, "না না ভাই, আপনি কোনো টেনশন কইরেন না। আপনার দাঁতের পজিশন খুব সুন্দর হয়েছে। আপনার এক্সরে খুব ভালো আসবে। ইনশা'আল্লাহ।"  

আপু দু'জন আবারও খিলখিল করে হেসে ওঠে।  
  

মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৪

লম্বা হাতলওয়ালা চামচ

একটা বড় ঘর।  ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা বিশাল গোল টেবিল। টেবিলের ঠিক মাঝখানে রাখা সুস্বাদু সুপের বাটি। লোভনীয় গন্ধে মৌমৌ করছে বাতাস। কিন্তু, টেবিলের চারদিকের চেয়ারগুলিতে বসা জীর্ণ-শীর্ণ-অসুস্থ কিছু মানুষ। তাদের বেঁধে রাখা হয়েছে চেয়ারের সাথে, যেন তারা চেয়ার থেকে উঠতে না পারে। সবার হাতের তালুর সাথে বাঁধা লম্বা হাতলওয়ালা চামচ। সে চামচ এতটাই বড় যেটা দিয়ে সহজেই টেবিলের মাঝখানে রাখা সুপের বাটি থেকে সুপ তুলে আনা যায়। তবুও লোকগুলো এত জীর্ণ-শীর্ণ-অসুস্থ কেন? কারণ, চামচের হাতলগুলো এতই লম্বা যে হাত বাঁধা অবস্থায় সুপ ভর্তি চামচ ঘুরিয়ে মুখ পর্যন্ত নিয়ে আসা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না।  ক্ষুধার্ত লোকগুলো তাই বারবার ঠিকই সুপ তুলে আনতে পারছে, কিন্তু খেতে পারছে না।  

আরেকটা ঘর।  একই রকম বড়।  এখানেও মাঝখানে বিশাল গোল টেবিল, তার মাঝখানে সুপের বাটি। এখানেও চেয়ারে বসে থাকা লোকগুলো আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা, হাতের তালুর সাথে বাঁধা লম্বা হাতলওয়ালা চামচ। পার্থক্য একটাই।  এখানকার মানুষগুলি সব হাসিখুশি, স্বাস্থ্যবান, কষ্টহীন।  

কিভাবে জানেন? তারা কেবল একটা বিদ্যা শিখে নিয়েছে, খুব ভালো ভাবে। 

তারা নিজের চামচটা দিয়ে কখনো নিজে খাওয়ার চেষ্টা করছেন না, বরং একে অন্যকে খাইয়ে দিচ্ছেন। 

মন খারাপ করেই বলছি, প্রথম ঘরটাকে কেন যেন আজকের বাংলাদেশের মত লাগে। 

পরের ঘরটার মানুষগুলির মত কবে হব আমরা? 

(মূল গল্পটা বইএ পড়েছি। মন খারাপের জায়গাটা আমার নিজের।)


সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০১৪

বাথরুম রুটিন

দাঁত ব্রাশ + শেইভ + গোসল + হাগু (এবং আনুষঙ্গিক ক্রিয়াকর্ম) + ফেইসবুক = সবমিলিয়ে প্রায় ৩৫/৪০ মিনিটের ব্যস্ততা। - - এটা আমার প্রতিদিন সকালের বাথরুম রুটিন। 

আর, আমার প্রানপ্রিয় বউ'এর ভাষায়, বাথরুমে মোবাইল নিয়ে গিয়ে ফেইসবুক গুতাগুতি করা নাকি আমার সবচেয়ে বাজে দোষগুলির মধ্যে অন্যতম। 

এইবার খুব খেয়াল করে সিচুয়েশনটা বোঝেন। 

-----------------

আমি কমোডে, হাতে মোবাইল ফোন। মর্নিং রুটিন মাত্র শুরু করেছি। বউ বাইরে থেকে আওয়াজ দিল, "শোনো, আমি বাচ্চাদের নিয়ে বের হলাম।  আম্মুর বাসায় বাচ্চাদের রেখে তারপর অফিসে যাব।  তুমি সন্ধার মধ্যে আম্মুর বাসায় চলে এস।"

"হমমম, ওকে"

"বেডরুমের আর মেইন দরজার চাবি বিছানার পাশের টেবিলে রেখে গেলাম।" (this is the most important line)

"হমমম, ওকে"

"বেডরুম আর মেইন দরজা লক করে দিয়ে যাবো?" (this is important too ...)

"হমমম, ওকে"

"উফ্ফ, অসহ্য।  জঘন্য লাগে এই বাথরুমে বসে ফেইসবুকিং। থাকো তুমি, আমি গেলাম।"

"হমমম, ওকে"

তারপর পরপর বেডরুম আর মেইন দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পেলাম। আমি হোম এলোন, শান্তিই শান্তি।  

--------------------

আধা ঘন্টা পর।  রুটিন অনুযায়ী আমার সব কাজ শেষ।  বউ ততক্ষণে নিশ্চয়ই গুলশানের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আমি বাথরুম থেকে বের হব।  কিন্তু ....

--------------------

আবার একটু আধা ঘন্টা আগের সময়টাতে ফিরে যাই।  

আমি যখন আমার বউ'এর সাথে কথোপকথনে ব্যস্ত, আমার super intelligent পুত্র তখন নিঃশব্দে বাথরুমের দরজার ছিটকিনি বাইরে থেকে লাগিয়ে দেয়ার কর্মে লিপ্ত। বলাই বাহুল্য, তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাথরুমের দরজার ছিটকিনি বাইরে থেকে পুরোপুরি লাগিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন।   

--------------------

৩ ঘন্টা পর।  

বউ এসে চাবিওয়ালা ডাকিয়ে বেডরুম আর মেইন দরজার চাবি বানিয়ে, বাথরুমের দরজার ছিটকিনি খুলে আমাকে "উদ্ধার" করে।  

-------------------

সাড়ে ৩ ঘন্টা পর।  

আমি মিনমিন করে বলি, "দেখসো? তুমি তো খালি আমাকে ঝারি মারো বাথরুমে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকি বলে।  আজকে যদি ফোনটা সাথে না থাকতো, তোমাকে আমি খবর দিতাম কিভাবে?" 

------------------

পোনে ৪ ঘন্টা পর।  

থাক না, সব কথা কি সবখানে বলা উচিত? 

শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০১৪

বিবাহিত পুরুষ, ঘানিটানা গরু আর ডিম দেয়া মুরগি

মকবুল মুনশীর একটা হাড়জিরজিরে গরু আছে।  সেই গরু দিয়ে সে ঘানি টানায়, সেখান থেকে তেল বের হয়, সেই তেল বাজারে বেচে তাদের বাড়ির খরচ যোগার হয়।  

সুলতানা খাতুন মুরগি পালেন। মুরগি ডিম দেয়, সেই ডিম বেচা টাকায় তার সংসার চলে। 

এখন, কোনো বোকা নিশ্চয়ই এ প্রশ্ন করবে না যে, তেল বেচা টাকার মালিক কি গরুটা, নাকি মকবুল মুনশী? কিংবা, ডিম বেচা টাকার মালিক কি মুরগিগুলি, নাকি সুলতানা খাতুন? 

ঠিক তেমনি, আইরিন পারভীনের একটা নাদুসনুদুস জামাই আছে। সেই জামাই সারাদিন মগজ বেচে, সেই মগজ বেচা টাকায় আইরিন পারভীনের সংসার চলে।

কোনো বোকা নিশ্চয়ই এক্ষেত্রেও প্রশ্ন করবে না, মগজ বেচা টাকার মালিক কি নাদুসনুদুস জামাইটা? নাকি আইরিন পারভীন? 

সারাংশ: বিবাহিত পুরুষ, ঘানিটানা গরু আর ডিম দেয়া মুরগি'র স্টেটাস সেইম টু সেইম। 

বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৪

জাতির পিতা, স্বপ্নভঙ্গ এবং জয়িতা চৌধুরী

জাতির পিতা, স্বপ্নভঙ্গ এবং জয়িতা চৌধুরী ------------------------------------------- ৯ বছর আগের কথা। আমরা প্রথমবারের মত বাবা-মা হতে যাচ্ছি। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ছেলে হবে নাকি মেয়ে, তা দেখিনি আমরা। কিন্তু কোনো এক অদ্ভূত কারণে আমি আর আমার বউ দু'জনই কনফার্ম ছিলাম যে আমাদের মেয়ে হতে যাচ্ছে। যাই হোক, একটা সুস্থ বাচ্চার জন্ম হোক, সেজন্য আমরা সবাই অধীর আগ্রহে দিন গুনছি। ডাক্তার সম্ভাব্য জন্মতারিখ জানালো - ২৬ মার্চ। আর সাথে সাথে আমার মাথায় উঁকি দিল চরম এক প্ল্যান - জাতির পিতা হওয়ার প্ল্যান। আমার মেয়ের জন্ম হবে ২৬শে মার্চ। আমি আমার মেয়ের নাম রাখবো "জাতি" - আর আমি হয়ে যাব "জাতির পিতা"। পূনম হবে জাতির মাতা, আব্বা-আম্মা-শ্বশুর-শাশুড়ি যথাক্রমে জাতির দাদা-দাদী-নানা-নানী। হাসিব জাতির চাচা, আমার ৩ শালা জাতির মামা। ১০০% লিগাল, সকল বিতর্কের উর্ধে। আমার এই প্ল্যানকে সবাই পাগলামি হিসেবে দেখলেও "জাতির কিছু একটা" হওয়ার লোভে প্ল্যানটাকে পুরাপুরি বাতিলও করে দিতে পারছিল না। যাই হোক, ২৫ মার্চ রাত থেকে শুরু হলো আমার দোআ-দরুদ পাঠ। যেমনেই হোক কালকেই ডাউনলোড করতে হবে। বাই হুক অর বাই ক্রুক, বঙ্গবন্ধুর "জাতির পিতা" টাইটেলে আমাকে ভাগ বসাতে হবেই। ভেজাল হলো ডাক্তার প্রথম থেকেই বলে আসছিল যে পূনমের নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, সুতরাং ইচ্ছা মত ডাউনলোড করার অপশনও বন্ধ :( ইন্টারনেট বললো হাঁটাহাঁটি করলে নাকি লেবার পেইন তাড়াতাড়ি উঠতে পারে। মনে আছে, ২৫ মার্চ সন্ধায় আমি পূনম'কে জোর করে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে ক্রিসেন্ট রোডে কয়েক চক্কর খাইয়েছি। ২৫শে মার্চ সারারাত পার হলো, পেইন উঠলো না। সকাল থেকে আবার হাঁটাহাঁটি, বাধ্য মেয়ের মত পূনম আমার "জাতির পিতা" হওয়ার স্বপ্ন সত্যি করতে প্রানপনে হেঁটে বেরালো। মাঝে মাঝে অবশ্য অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছিল, বাট ঐটা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু পরম আরাধ্য লেবার পেইন আর উঠলো না। আমি স্বপ্নভঙ্গের পেইনে পেইনিত হলাম। ২৬শে মার্চ শেষ হয়ে গেল। ২৭ তারিখ সকালে আমি অফিস গেলাম। যেতে না যেতেই আম্মার ফোন - "পূনমের ব্যথা উঠেছে, তাড়াতাড়ি চলে আসো। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।" ২৭ মার্চ ২০০৫, রাত সাড়ে ১১টায় জন্ম নিল আমাদের প্রথম সন্তান। আমরা তার নাম রাখলাম জয়িতা চৌধুরী। ২৬শে যেহেতু হলোই না, তাই জোর-জবরদস্তি করে আর "জাতির পিতা" হতে ইচ্ছা হলোনা। আমাদের জয়িতার আজ নবম জন্মদিন। এত তাড়াতাড়ি কেমনে আমার হাতের তালুর সমান মেয়েটা এত বড় হয়ে গেল, আমি জানি না। তবে, এত লক্ষী একটা মেয়ের বাবা হতে পেরে আমি যে অনেক বেশি সুখী, সেটা ঠিকই জানি। ভাগ্যিস পাগলামি করে মেয়ের নাম "জাতি" রাখি নাই। মেয়ে যখন বড় হবে, তখন "জয়িতার বাবা" পরিচয়ে পরিচিত হতেই আমি বেশি গর্ব বোধ করবো। শুভ জন্মদিন মা। তুই অনেক বড় হ। আমি, আমরা তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি। *** দয়া করে এই লেখার মধ্যে কেউ জাতির পিতাকে অসম্মান করার কোনো গন্ধ খুঁজে নেবার চেষ্টা করবেন না। বঙ্গবন্ধু আমার কাছে শর্তহীন শ্রদ্ধা এবং অন্তহীন ভালবাসার আসনে আসীন বলেই প্রথমবার বাবা হবার সময় আমি এমন পাগলামি চিন্তা করতে পেরেছি।

বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০১৪

কালিয়াকৈরে কেন গাবতলী

রাজশাহী থেকে ফিরছি। সামনের সীটে হেভি স্মার্ট এক যুবক বসা। মাঝে মাঝেই ফোনে বাংলিশে বাতচিত করছে। আমি ঘুমঘুম চোখে তার কথা শুনছি। 

কালিয়াকৈর বাজারে হালকা জ্যাম। হঠাত শুনি স্মার্ট ভাই ফোনে কথা বলতে শুরু করেছেন - "আব্বু, আই থিংক আমরা পৌঁছে গেছি। .... .... ইয়া ইয়া গাবতলী ....ইয়া ইয়া আমি শিওর ..... ওহ নো! কি বলো??? .... এখনো গাড়ি পাঠাও নাই ??!!..... শিট, কতক্ষণ লাগবে আর? প্লিজ তাড়াতাড়ি পাঠাও।"

ফোন রেখেও সে "শিট", "ড্যাম", "টুত", "টুউউত" চালিয়ে যেতে লাগল।

আমার আবার একটু পরোপকারী হওয়ার বাতিক আছে। তাই, স্মার্ট ভাই'এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম "এক্সকিউজ মি ভাইয়া, আপনার মনে হয় একটু ভুল হয়েছে। আমরা এখনো কালিয়াকৈর বাজারে। গাবতলী আসতে আরো মিনিমাম ৪৫ মিনিট লাগবে। আশা করি আপনি পৌঁছতে পৌঁছতে আপনার গাড়ি চলে আসবে।"

ভাই একটু কনফিউজড হয়ে গেল, এদিক ওদিক মাথা ঝাঁকিয়ে বললো - "আর ইউ শিওর ম্যান, দিস ইজ নট গাবতলী? আমাদের বাসের পাশে আই জাস্ট স আ বাস, যেটার গা'এ লেখা - গাবতলী !!! কালিয়াকৈরে কেন গাবতলী লেখা বাস থাকবে?"

.........

আমার বলার কিছু ছিল না
না গো
আমার বলার কিছু ছিল না ....