বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

ও এম জি!!!

৮৯.৬ জানি কোনটা? রেডিও টুডে না? 

যাই হোক, ঐটাতে দুপুর বেলা একটা প্রোগ্রাম হয়। গত পরশু আমার মেয়ে জয়ীকে স্কুল থেকে আনার সময় শুনছিলাম। প্রোগ্রামটার নাম হলো "ও এম জি"; উপস্থাপনা করে দু'জন মেয়ে আরজে। একজনের নাম ক্ষানিইজ (আসল নাম মনে হয় কানিজ), আরেকজনের এইঞ্জেলিইন (মনে হয় অ্যাঞ্জেলিন) ।  

তাদের কথোপকথনের কিছুটা পার্ট তুলে ধরছি। এক বিন্দুও মিথ্যা না।  উপরে আল্লাহ, নিচে জয়ী সাক্ষী। কথোপকথনটা ব্যাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে, হাত নেড়ে নেড়ে, দুলে দুলে পড়লে বেশি ফিল পাবেন। 

-------------------

এইঞ্জেলিইন: ও এম জি ক্ষানিইজ, তুমি এখনো একবাড়ও তোমাড় বান্ধবী দীপিকা, ক্যাটড়িনা আড় কাড়িনা কে নিয়ে কিছু বললা না? হাউজ দ্যাট পসিবল? 

ক্ষানিইজ: ও এম জি!!!!! ড়িয়ালি!!!! আমি কিভ্যাবে এঠা ভুলে গেলাম এইঞ্জেলিইন !!! শিট। শোনো না কি হইসে। আজকে সকালেই তো আমাকে কাড়িনা ফোন কড়লো। শি ওয়াজ সোওওও টেন্সড, ইউ নো। 

এইঞ্জেলিইন: টেন্সড? হোয়াই? হোয়াস্সাপ উইথ হার?

ক্ষানিইজ:  তুমি ঝানো না? ও এম জি!!! ওড় তো আড় জিড়ো ফিগাড় নাই, বুঝলা। ওর ফিগাড়ের সাথে অ্যাড হইসে আড়ও কতগুলা জিড়ো। হা হা হা, এখন তো সাইফ আড় ওকে পাত্তাই দেয় না।  কি অফুল অবস্থা, তাই না?

এইঞ্জেলিইন: ও এম জি!!! সিরিয়াসলি কাড়িনা তোমাকে এগুলা বলসে? আআআই ডোন্ট বিলিভ দিস!"  .........

------------------

বোন কানিজ, বোন অ্যাঞ্জেলিন, তোমাদের উপর আমার কোনো অভিযোগ নাই।  তোমাদের এই বয়সে তোমরা তো একটু-আধটু পাগলামি করতেই পারো।

কিন্তু যদি এই লেখাটা তোমাদের  কারো চোখে পরে, আমার একটা উপকার কোরো। তোমাদের প্রোগ্রামের যে হেড, তাকে আমার হয়ে একটু বলে দিও, রাস্তাঘাটে সাবধানে বের হতে।

যদি কখনো সামনে পাই, পার্মানেন্টলি ব্যাঁকা বানিয়ে দিব।  তখন হাত নেড়ে নেড়ে, দুলে দুলে কথা বলা ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকবে না।  

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

আমার হরেন নষ্ট রে ভাই

একটা ছোটখাটো পুলসেরাত পার হয়ে আসলাম রে ভাই। স্কুল ছুটির সময় গ্রিন রোড, ধানমন্ডি এসব এলাকায় ঘুরেছেন কখনো? জ্যামটা কেমন বলেন তো? 

মেয়েকে স্কুল থেকে তুলতে যাব, গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। একটু দূর গিয়ে দেখি গাড়ির হর্ন নষ্ট। পুরা বোবা, নো সাউন্ড!

এইবার বোঝেন ঠ্যালা। রাস্তাভর্তি রিকশার জ্যাম। চান্স পেলেই সবাই পুৎ করে বেলাইনে রিকশার মাথা ঢুকিয়ে দেয়। তার মাঝে আমার বোবা গাড়ি! গাড়ি যে আসলেই চলে না, চলে না, চলে না রে, গাড়ি চলে না :( 

তারপর কি হলো জানেন? সবাই দেখলো, লাল একটা গাড়ি থেকে নীল পাঞ্জাবি পরা মোটাতাজা একটা ড্রাইভার তরকারীওয়ালাদের মত গলা করে থেকে থেকেই আওয়াজ দিচ্ছে ....

"হরেন ভাই হরেন। আমার হরেন নষ্ট রে ভাই। একটু হরেন না রে ভাই, এমন করেন ক্যান ...."

(*এই স্টেটাসটার আরেকটা মাজেজা আছে। সেটা পরে বলব। )

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি।

গভ্ট ইনফো থেকে আজ সকালে এই মেসেজটা কে কে পেয়েছেন?

"আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। ২০০৯ সালের এই দিনে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হত্যাযজ্ঞে আমরা হারিয়েছিলাম ৫৭ জন সেনা সদস্যসহ মোট ৭৪ জন বাংলাদেশীকে। সেসময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার হিসেবে এই ব্যর্থতার সকল দ্বায়ভার স্বীকার করে নিয়ে সকলের কাছে অনুরোধ করছি নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোআ করতে। মানুষ হিসেবে, বাংলাদেশী হিসেবে আমরা লজ্জিত। - গভ্ট অফ পিপল্স রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ।"

........

কি বলেন? আপনি পান নাই এই এসএমএস? সিরিয়াসলি? 
.........

আমিও পাই নাই। ইন ফ্যাক্ট, কেউই পায় নাই। 

কারণ, এমন কোনো মেসেজ আসলে গভ্ট ইনফো থেকে পাঠানোই হয় নাই।  কিন্তু পাঠালে ভালো হতো না?  

কিছু কিছু ঘটনা বারবার মনে করিয়ে দেয়া উচিত। কিছু কিছু দুঃস্বপ্ন মনে করে বারবার আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। 

রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

"গু"-চর্চা

কালকে খুব পছন্দের এক সেলেব্রিটিকে ন্যাশনাল মিডিয়াতে "গু"-চর্চা করতে দেখার পর থেকে খুব কনফিউজড লাগছে। 

সাকিব ক্যামেরার সামনে অশোভন ভঙ্গি করলো। তার শাস্তি হলো। আমরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালাম। অবশ্যই সাকিবের মত আইকনের এমন করা উচিত হয় নাই। সাকিব'ও ভুল বুঝতে পেরেছে, অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমাও চেয়েছে।

কিছুদিন আগে এক স্কুলে কি এক অনুষ্ঠানে গিয়ে এক এমপি (নাকি মন্ত্রী?) সিগারেট খেয়েছেন। সেই ছবি নিয়ে ছি ছি রব উঠেছে। আমরাও সোচ্চার হয়েছি যে তার এই কাজটি খারাপ হয়েছে। তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং এমন ভুল আর হবে না বলে প্রমিস করেছেন। 

গতকাল রাতে ৭১ টিভিতে একটা টকশো দেখছিলাম। কাছের এবং পছন্দের মানুষরা এসেছে কথা বলতে, তাই আগ্রহ নিয়েই দেখছিলাম। টপিক হলো - সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, চ্যানেল বানিজ্য, আমাদের অনুষ্ঠানের কোয়ালিটি ইত্যাদি। বেশ স্বতস্ফুর্ত আলোচনা হচ্ছে, আমি মনোযোগ দিয়ে শুনছি। 

এ সময়ের একজন প্রতিভাবান নাটক নির্মাতাও আছেন প্যানেলে, যার বানানো নাটকের আমি বিশাল ফ্যান। তাকে একটা প্রশ্ন করা হলো - "আপনি যে নাটকগুলো বানান, সেগুলোর প্যাকেজিং নিয়ে কি আপনি খুশি?" উনি জবাব দেয়া শুরু করলেন এভাবে, "দেখেন, আমরা বেসিকালি গু নাটক বানাই।  আমাদের বেশির ভাগ নাটকই হয় গু'এর মত. ..." (এক্স্যাক্ট শব্দগুলো হয়ত মনে নাই, কিন্তু গু শব্দটা বড়ই বোল্ডলি উচ্চারণ করছিলেন তিনি)

বাকি অতিথিরা দেখলাম হালকা মুচকি হাসি দিয়ে ব্যাপারটাকে হালকা করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু, আমি ওই গু'তেই আটকে গেলাম। একটা ন্যাশনাল মিডিয়াতে এতগুলো জ্ঞানী-গুনি মানুষের মধ্যে বসে এই শব্দটা কি ব্যবহার না করলেই চলত না? ওনার কাজের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, উনি বোধহয় কোনটা ক্যাজুয়াল স্মার্টনেস আর কোনটা রুচিহীন নোংরামি - সেই পার্থক্যটা ধরতে পারেন নি।  

ভাই রে, গ্রেট পাওয়ার কামস উইথ গ্রেট রেসপনসিবিলিটি। সাকিবের তুলনায় এই নাট্যনির্মাতা হয়ত খুবই ক্ষুদ্র তারকা, তাই হয়ত তার দ্বায়ভার কিছুটা কম।  কিন্তু আমি শিওর, অন্তত তরুণ মহলে ওই বিড়িখেকো এমপির চেয়ে এই নাট্যনির্মাতার গ্রহণযোগ্যতা বেশি। ইউথের উপর তার ইনফ্লুয়েন্সও ডেফিনিটলি বেশি। 

তর্কে যাচ্ছিনা। সাকিবের বা এমপি সাহেবের আচরণ যেমন কুরুচিসম্পন্ন এবং লজ্জাজনক, আমার কাছে এই নাত্যনির্মাতার শব্দচয়নও নিতান্তই সস্তা নোংরামি। 

প্রথমেই কনফিউজড বলেছিলাম কেন জানেন? কেন জানি মনে হচ্ছে, এই ইস্যুতে বেশির ভাগ মানুষকেই আমি আমার বিপক্ষে পাব। এই সেলেব্রিটি কখনই ক্ষমা চাইবে না। উল্টা তার পক্ষের লোকজন আমাকে উপদেশ দিবে, "কুল ডাউন ম্যান, কথায় কথায় শিট যদি বলতে পারি, গু বললে দোষ কোথায়? আপনে মিয়া হুদাই ত্যানা প্যাচান। ইন ফ্যাক্ট ইট্স ফেব্রুয়ারি মান্থ, উই অল শুড ইউজ বাংলা ওয়ার্ডস। " আরো খারাপ কথাও বলবে ওস্তাদ যদি টিভি মিডিয়াতেই গু বলতে পারে, মুরিদরা তো সোশাল মিডিয়াতে যা খুশি বলতেই পারে। 

যাই হোক, আমি দুঃখিত। ত্যানা প্যাচানোর জন্য না।  এই স্টেটাস'এ বাধ্য হয়ে "গু" শব্দটা ব্যবহার করেছি বলে।   

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

বাঙালি জাতির ল.সা.গু.

জীয়নের মত একটা ত্যান্দর পোলা যে বাসায় থাকে, সেখানে এন্টারটেইনমেন্টের কোনো অভাব নাই।  বর্তমান এন্টারটেইনমেন্টের নাম "ক্রমাগত প্রশ্নোত্তর পর্ব"।

প্রশ্ন: বলতো বাবা, আপুনি সকালে কোথায় যায়?
উত্তর: আপুনি ইত্তুলে দায়।  
প্রশ্ন: মা কোথায় যায়?
উত্তর: মা অপিতে দায়। 
প্রশ্ন: বাপ্পু কোথায় যায়? (বাপ্পু আমার খালা, সিটি কলেজের টিচার) 
উত্তর: বাপ্পু তলেদে দায়।  
প্রশ্ন: বেনি চাচী কোথায় যায়? (বেনি আমার খালাতো ভাইয়ের বউ।  ডাক্তার।)
উত্তর: বেনি তাতি হাপ্পাতালে দায়।  

এভাবে একের পর এক কঠিন কঠিন প্রশ্নের ইউনিক সব জবাব ঠিকঠাক ভাবে দিয়ে জীয়ন সবাইকে মুগ্ধ করতে থাকে। 

কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ড প্রশ্ন শুরু হলেই বিপদ। কোনো এক রহস্যময় কারণে সব প্রশ্নের একই জবাব আসতে শুরু করে।  

প্রশ্ন: বলতো বাবা, আপুনি স্কুলে গিয়ে কি করে? 
উত্তর: আপুনি ইত্তুলে গিয়ে ধুমায়।  
প্রশ্ন: মা অফিসে গিয়ে কি করে?
উত্তর: মা অপিতে গিয়ে ধুমায়। .... বাপ্পু তলেদে গিয়ে ধুমায়। .....  বেনি তাতি হাপ্পাতালে গিয়ে ধুমায়। .... সবাইইইইই ধুমায়। .....

কি বেইজ্জতি ব্যাপার রে ভাই।  বাঙালি জাতির ল.সা.গু. যদি কেউ ২০ মাস বয়সেই শিখে ফেলে, টেনশন না? 


আপনাদের এইবার ঘটনাটা বুঝাই।

এমন হয় রে ভাই।  এমন হতেই পারে। আপনাদের একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাই। 

ধরেন, আপনি একজন মোটামুটি লেভেলের ছাত্র। এইবার ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষার জন্য আপনার প্রস্তুতি ভালো। প্রথম পরীক্ষা দিতে গেলেন। কিসুই কমন পড়ল না, রাম-ছ্যাকা যাকে বলে। আপনি প্রথম ধাক্কা খেলেন। মন খারাপ করলেন। কিন্তু মনোবল হারালেন না।   ........ এইটা ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলংকার প্রথম টেস্ট।  

মন-টন ঠিকঠাক করে পরের পরীক্ষা দিতে গেলেন। মাশাল্লাহ পরীক্ষা ভালই হলো।  কনফিডেন্স আবার ফিরে আসল।  আপনি ভাবা শুরু করলেন, জাশ্শালা, এইবার আব্বারে দেখায়ে দিব আরো ভালো রেসাল্ট করে।  ..... এইটা ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলংকার দ্বিতীয় টেস্ট।  

মহা মুডে তৃতীয় পরীক্ষা দিতে গেলেন। হাফ ইউনিট পরীক্ষা, ভ্যাজাল কম, কোশ্চেন কমন, নরম-শরম স্যার ডিউটিতে - কনফার্ম এই পরীক্ষায় আপনি ফাটিয়ে ফেলবেন। কিন্তু কি জানি কি হলো, মাঝ পরীক্ষায় আপনার পেটে চিপ দিল, শুরু হলো বাত্তুম। উপুর্যুপুরি, বারবার। অর্ধেক খাতা খালি রেখে অশ্রুসজল চোখে হল ত্যাগ করলেন। ..... এইটা ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলংকার প্রথম টি-টুয়েন্টি।  

ইমোটিল খেয়ে ছিপি এঁটে পরের পরীক্ষা দিতে গেলেন, এটাও ছোট পরীক্ষা। কোশ্চেনও কমন পড়ল। ভালই চলছিল সব।  কিন্তু পরিনতি সেইম, ডায়রিয়া ইজ দা নেইম অফ দা গেইম। অর্ধেক খাতা খালি রেখে ভগ্নমনোরথ হয়ে বাড়ি ফিরে আসলেন। ..... এইটা ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলংকার দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি।  

আপনি গান শোনা শুরু করলেন - "ভাঙ্গা মন নিয়ে তুমি আর কেঁদো না ... " 

কান্না থামিয়ে আবার রেডি হলেন। শেষ ৩টা পরীক্ষা। এই সাবজেক্টগুলা আপনার ফেভারিট। প্রতিবছর এগুলাতে আপনি ভালো করেন। সুতরাং, ভাবলেন শেষ চেষ্টাটা করে দেখি। 

গেলেন পরীক্ষার হলে। কোশ্চেন দেখে আনন্দে চোখে পানি। পানির মত সোজা। খেয়ে-না-খেয়ে লিখতে শুরু করলেন। যখন সবে ভাবতে শুরু করেছেন যে এইবার এক্কেরে জিন্দাপুইত্তালাইবেন, ঠিক তখনি শোনেন পেট থেকে গুরগুর আওয়াজ। ওহ শিট, ডায়পার তো পরা হয়নি। উফ, আবারও বাত্তুম। উপুর্যুপুরি, বারবার। অর্ধেক খাতা খালি রেখে আবারও হল ত্যাগ করলেন। .....এইটা ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলংকার প্রথম ওয়ানডে।  

তারপর কি আর মনোবল কিছু অবশিষ্ট থাকে, বলেন? চিন্তা এখন একটাই, মরার পরীক্ষা শেষ হয় না ক্যান? 

যাই হোক।  ভাঙ্গা মন নিয়ে, ইয়া নফসি ইয়া নফসি করতে করতে শেষ দুইটা পরীক্ষাও দিলেন। বেগ তখন কন্ট্রোলে, কিন্তু শরীর-মন দুর্বল। দুর্বলতার কাছে হার মানলো আবেগ। শেষ দু'টি পরীক্ষার ফলাফলও সেইম। ডায়রিয়া ইজ দা নেইম অফ দা গেইম। .....এই দুইটা ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলংকার দ্বিতীয় আর তৃতীয় ওয়ানডে।  

শেষ কথা: 
-----------

পরীক্ষা শেষ। কিন্তু .....

এইটা ছিল ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষা। সামনে আসছে সেকেন্ড টার্ম আর ফাইনাল। 

ইমোটিল এখন থেকেই খাওয়া শুরু করেন। মন শক্ত করেন। ভালমত প্রস্তুতি নেন। 

ইনশাআল্লাহ, পরেরবারও ডায়রিয়া হবে। তবে আপনার না। অন্যদের। 

শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

সাকিব

উই আর এ ড্যাম প্রাউড পোলারাইজড নেশন। 

না, আমি পুরা দেশের কথা বলছি না।  কিন্তু ইহা প্রমানিত যে, এই ফেইসবুক দুনিয়ার বাসিন্দাদের যেকোনো ইস্যুতে দুই ভাগ হয়ে যেতে এক মুহূর্তও লাগে না।  নাস্তিক-আস্তিক'এর দলাদলি  তো সেই কবে থেকে। ভাষা নিয়েও মাশাল্লাহ ভালই ভাগাভাগি দেখছি - ভাষাকে কি বহতা নদীর মত বয়ে যেতে দেয়া উচিত নাকি ভাষাকে যক্ষের ধনের মত আগলে রাখা উচিত, সে নিয়েও দেখলাম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। রিসেন্ট ক্রেজ "গুন্ডে"র গুন্ডামির প্রতিবাদ করাটা কি কাজের কাজ হলো, নাকি ভ্যারেন্ডা ভাজা হলো সে নিয়েও ফেইসবুক দুইভাগ। 

এইবার শুরু হলো সাকিব-সাকিব খেলা। কানামাছি মিথ্যা, নাকি কানামাছি সত্য? কানামাছি তুমি আমি যে যার মত থাকার তুই কে রে শালা? 

পারিও ভাই আমরা! ব্রাভো।  

দুইটা জিনিস শিখলাম: 

১. ইন্টারনেটে যেকোনো ইস্যু নিয়ে চিল্লাফাল্লা করতে আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। একদিনের মধ্যে একটা মুভিকে ৬.১ রেটিং থেকে কুপিয়ে ১.২তে নামিয়ে আনা পসিবল হয়েছে হয়ত কোপাকুপিটা তর্জনীনির্ভর ছিল বলেই। পজিটিভলি নিতে চাই ব্যাপারটাকে। একটা কমিটি তৈরী করে লেট্স ফাইন্ড আউট কি কি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড আছে যেগুলা ইন্টারনেট এবং জনসংখ্যা নির্ভর। সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে।  ইনশাল্লাহ। (* এত বেশি বেকার ইন্টারনেট ইউজার আর কোনো দেশে আছে বলে মনে হয়না। ইয়ে... মানে... আমিও কিন্তু এদেরই একজন। এবং এক্ষেত্রে একমাত্র কম্পিটিশন শুধুমাত্র বড়ভাই ইন্ডিয়াই হতে পারে) 

২. বাংলাদেশ আওয়ামীলিগ কিন্তু জোশ দেশ চালাচ্ছে। । বলুন তো, শেষ কবে আমরা, মানে ফেইসবুক-ভিত্তিক পাকনা-জনগোষ্ঠী সরকার বা সরকারী দলের কোনো এমপি-মন্ত্রীর পিন্ডি চট্কেছি? এক দুষ্টু এমপি বিড়ি খেয়ে সরি বলার পর আর কোনো দুষ্টামি তারা করেছে বলে তো মনে পড়ছে না। পাকনা গ্রুপ এত লক্ষী আগে কবে ছিল তা মনে হয় খোদ সরকারের ওপরওয়ালারাও মনে করতে পারবেন না। 

শেষকথা: 

ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, বসন্তকে যেমন আসতেই হয়; সাকিব থাকুক আর না থাকুক, লেট্স শো দা লঙ্কানস - বানর যখন বাঘের লেজ ধরে টান দেয়, বাঘ তখন সিংহকেও ছেড়ে কথা বলে না।

আমার এই কোথায় ফেইসবুকবাসী দুই ভাগ হবে না বলেই আমার বিশ্বাস।