সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩

নতুন বছরে গোপালগঞ্জে গোলাপী রঙের গোলাপ ফুটুক।

চাইতেই পারতাম, আমার বউ যেন নতুন বছরে আমার প্রাক্তন বান্ধবীদের সাথে রাগ-ঝগড়া-খিটিমিটি মিটিয়ে ফেলে তাদের চা-ডালপুরি খাওয়ার দাওয়াত দেয়।  

চাইতেই পারতাম, নতুন বছরে আমার ভুলোমনা-দুষ্টু ক্লায়েন্টরা যেন মেঘ না চাইতেই জল দেয়ার মতো করে প্রায় ভুলে যেতে বসা পেমেন্টগুলা ইন্টারেস্ট-সমেত দিয়ে দেয়।  

চাইতেই পারতাম, হাজার বার্গার, কোক, আইসক্রিম, কাচ্চি খাওয়ার পরও যেন নতুন বছরে আমার ওজন ২০/২৫ কেজি কমে যায়।  

একদা এক মুরুব্বী বলেছিলেন "যাতে শুধু নিজের লাভ হয়, তা চাইবি না। যাতে সব মানুষের উপকার হয়, তা চাইবি। ঈশ্বর ত্যাগ পছন্দ করেন।"

নেন মুরুব্বী, আপনার কথা শুনলাম। অনেক বড় ত্যাগ করলাম। বউ'এর সাথে বান্ধবীদের ডালপুরি মিটিং চাইলাম না। চাইলাম না ওজন কমা। চাইলাম না ইন্টারেস্ট (শুধু আসলটা দিলেই হবে)। 

বরং, অন্তরের অন্তস্থল থেকে চাইলাম, আমাদের দুই নেত্রী যেন নতুন বছরে রাগ-ঝগড়া-খিটিমিটি মিটিয়ে ফেলে যেকোনো  উসিলায় একসাথে বসেন, সামনা-সামনি হাসিমুখে কথা বলেন, চা-ডালপুরি খান।  

নতুন বছরে গোপালগঞ্জে গোলাপী রঙের গোলাপ ফুটুক। 

হ্যাপি নিউ ইয়ার।

[এবার একটু আগেভাগেই উইশ করে ফেললাম। বলা তো যায় না, হঠাত যদি সামনে বালুর ট্রাক নষ্ট হয়ে যায়, তখন তো স্টেটাসটাও আটকে যাবে।]

শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

টি-২০ বিশ্বকাপ

২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে - এই খবর জানার পর থেকে ব্রাজিলের সরকার থেকে শুরু করে প্রতিটা মানুষের ধ্যানে-জ্ঞানে একটা জিনিষই কাজ করেছে - যেভাবেই হোক, বিশ্বকাপের আয়োজনটাকে সেইরকম সাকসেসফুল করতে হবে।  এটা তারা সবাই জানে যে এমন একটা ইভেন্ট একটা দেশকে তার সব ভালো-ভালো দিকগুলি পুরা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সাহায্য করে।  ভালো মত আয়োজন করতে পারলে এমন একটা ইভেন্ট একটা দেশের অর্থনৈতিক সিনারিও'ই পাল্টে দিতে পারে। 

আর মাত্র ৩ মাস পর বাংলাদেশে টি-২০ বিশ্বকাপ। স্বাধীনতার পর এত বড় কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্টের একক হোস্ট বাংলাদেশ আগে কখনো হয়নি। আইসিসিই বলুন আর অংশগ্রহণকারী দেশগুলির ক্রিকেট বোর্ডগুলির কথাই বলুন - সবার নজর কিন্তু এখন আমাদের দেশের দিকে থাকাটাই স্বাভাবিক। 

আর কি সুন্দর ভাবেই না আমরা আমাদের চরিত্রটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছি, তাই না? এই অবস্থার ফলাফল হিসেবে ক্রিকেটের এত বড় একটা আসর যদি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য দেশে চলে যায় - কত্ত ভালো হবে, তাই না? 

জানি, এজন্য কেউ দোষ দিবেন সরকারী দলকে, কেউ দিবেন বিরোধী দলকে; আবার অনেক জ্ঞানী-গুনিজনরা দোষ চাপাবেন ভারত-শাসিত-আইসিসির উপর।  

লাভ কি ভাই দোষ চাপিয়ে। কার দোষে ন্যাংটা হলেন, সেটা ভেবে কি লাভ? দুনিয়া যে আপনার নাঙ্গা পাছু'টা দেখে ফেললো, সেটা কি ভালো হলো? 

কাল আমাদের আনুগত্য প্রকাশের দিন।

আমার ঢাকার বাইরে থাকা বন্ধুদের মুখে শুনলাম, কাল নাকি তাদের "এসপারে" অথবা "ওসপারে" হাজিরা দিতে হবে। কাল যারা ঢাকায় আসার আহবানে সাড়া না দিয়ে নিজ নিজ কাজের বা পড়াশোনার জায়গায় হাজিরা দিবে, তারা চিরতরে আওয়ামীলীগের পতাকাতলে আশ্রয় পাবে। আর যারা কাল ঢাকায় এসে হাজিরা দিতে পারবে তারা আজীবন বিএনপি'র ছত্রছায়ায় চলে আসবে।

নো ঘরে বসে মা-বউ-এর আঁচলে মুখ লুকিয়ে থাকা। নো মাঝামাঝি অবস্থান। হয় এসপার, নয় ওসপার।

ন্যাংটা না হয়ে যাবি কোই এইবার? 

কাল প্রভুদের ক্ষমতা প্রদর্শনের দিন।

কাল আমাদের আনুগত্য প্রকাশের দিন।  

ইনশাল্লাহ, কাল আমরা আম-জনতা, হয় এইদলের গুন্ডা নাহয় নাহয় ঐদলের পান্ডার সামনে দাঁড়িয়ে, পাছুর কাপড় তুলে, উপুত হয়ে বলবো - "জাহাপনা, তুসি গ্রেট হো, তোফা কবুল করো।"  

আলো ফুটবেই

আমি যাচ্ছি মিছিলে 
তুমি কিসের অপেক্ষায়? 
সব দেখেও না দেখে
তুমি নিশ্চুপ কেন হায়!

আমি শুনছি নতুন গান 
তুমি কিসের বাহানায় 
সব বুঝেও না বোঝার 
এ কেমন অভিনয়? 

যতই তুমি চোখ ফিরিয়ে থাকো  
যতই তুমি মুখ লুকিয়ে রাখো 

জেনে রেখো তুমি 
আঁধার কাটবেই 
সকাল হাসবেই 

দেখে নিও তুমি 
সূর্য উঠবেই 
আলো ফুটবেই 

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

তায়া কি পায়া ভাং গ্যায়া?

সকাল বেলা কমোডে বসে আছি আর ঘরের টিভি থেকে ভেসে আসা হিন্দি গান শুনছি; ধুম মাচালে। হঠাত বৌএর আর্ত চিত্কার, "হায় হায়, সর্বনাশ, মিল্টনের স্টেটাস দেখসো???!!!!"

আমি সিরিয়াস ভাব দিয়ে আওয়াজ দিলাম, "কিউ? ক্যায়া হুয়া?"

ইশ-ইশ-চুক-চুক শব্দ করতে করতে বউ গম্ভীর ভাবে বলল, "মিল্টন লিখসে, হি ইজ উইথ তায়া ইন এপোলো হসপিটাল, ওর ankle sprain হইসে।" (এখানে উল্লেক্ষ্য যে তায়া হলো আমার বন্ধু মিল্টনের বউ)

কি হলো বুঝলাম না।  আমার মুখ দিয়ে অটোমেটিক বের হয়ে গেল ---  "ক্যায়া? তায়া কি পায়া ভাং গ্যায়া?"

--------------------

বাথরুমের ভিতর থেকেই বৌএর রক্তচক্ষুর গরম আমি ঠিকই টের পাইলাম। 

---------------------

তায়া, তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো ভায়া। আজকে তোমার পায়া ভাঙ্গার কারণে তোমার বেহায়া জামাই আড্ডায় আসতে পারছে না বলে আমার সত্যিই বড় মায়া হচ্ছে। (ইশ-ইশ-চুক-চুক শব্দ)

মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

তবে কি এক জীবনে এই আমাকে এত্ত ভালোবাসতি?

যদি না সেই বিকালে মনের ভুলে  
আমার কাছে আসতি,
যদি না আমার আজব 
আজব কথায় হাসতি, 
যদি না বোকার মত 
বিয়ের জালে ফাঁসতি, 
তবে কি এক জীবনে
এই আমাকে এত্ত ভালোবাসতি? 

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৩

১২ বছর

"রাজীব, তুই শিওর তো?"
"মানে কি? এই টাইমে এইটা কেমন কোয়েশ্চেন?"
"তুই বুঝতে পারছিস না। আমার মনে হচ্ছে আমি ভুল করতে যাচ্ছি। আমি মোটামুটি শিওর যে তোরে বিয়ে করে আমি বিগটাইম ধরা খাবো।"
"আজব রে ভাই, এই কথা তোর আজকে মাথায় আসলো? আজকে তোর হলুদ রে ভাই। পরশু তোর-আমার বিয়া!"
"হারামজাদা, তুই বিয়া মানে বুঝোস?"
"আমি ক্যামনে বুঝবো? আমার বিয়ার বয়স হইসে নাকি?"
"তাইলে বিয়ে করতেসোস ক্যান?"
"আরে, আজব তো! তোর তো বিয়ের বয়স হইসে। আমি না করলে তো অন্য কেউ তোরে বিয়ে করে ফেলবে। তখন তো কানতে কানতে মরবি।"
"ফর হেভেনস সেক রাজীব, প্লিজ সিরিয়াস হ। এখনো টাইম আছে। চল বাদ দেই। বিয়ে করে পস্তানোর চেয়ে বিয়ের আগে সীন ক্রিয়েট করে সব ক্যানসেল করা ভালো।"
"জোশ তো! বাসায় যা, গিয়া তোর বাপ-মা'রে বল, তোর ভুল হইসে। তুই আমারে বিয়া করবি না। আবার যেন তোর জন্য বুইড়া পাত্র দেখা শুরু করে।"
"অসহ্য। তুই আসলেই ইম্পসিবল। আমি লিখে দিতে পারি, তোর সাথে কোনো মেয়ে এক সপ্তাহও টিকতে পারবে না। "

.........................

এই মিটিংটা হয় পূনমের গায়ে হলুদের দিন সকালে; হাতিরপুল বাজারের উল্টাদিকে হার্টথ্রব নামক একটা ফাস্টফুডের দোকানে। 

ঐদিন বিকালে পূনমের হলুদ অনুষ্ঠিত হয়।  
তার দুইদিন পর মহাসমারহে আমাদের বিয়ে হয়।  

বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার সময়ও গাড়িতে ঢেশকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে পূনম বলছিল, "৭ দিনের বেশি তোর সাথে টিকতে পারলে ফকির খাওয়াবো।"

.................................................

শুভ যুগপূর্তি পূনম। ফকির কিন্তু এখনো খাওয়াস নাই, অথচ ১২ বছর ঠিকই কাটিয়ে দিলি আমার সাথে!

তোর জাজমেন্ট যে কতটা ফাউল, এখন বুজ্ছোস?