শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৩

টুয়েন্টিনাইন

"ফার্স্ট কল এইবার তোর। স্টার্ট কর।"
"১৬?"
"আছি"
"১৭?"
"আছি"
"১৮?"
"ধুর ব্যাটা, কি ডাকোস এগুলা মুরগির মত? ১৬-১৭'র দিন আছে নাকি এখনো?"
"আচ্ছা যা, ২০"
"২২ পর্যন্ত আছি"
"ওকে ... ২৩"
"২৩??? যাহ, ডাবল দিলাম। ২৩ পাবি না। শিওর"
"রিডাবল। ২৩ ক্যান? ২৯ কল দিলেও ব্যাপার ছিল না। বাসে পেট্রল বোম মারার প্ল্যানই তো হইসে অ্যাটলিস্ট ১৫টা। এর মধ্যে ২৩টা লাশ পরবো না? কি কস তুই? হুদাই ব্যাটা ডাবল দিলি। সামলা এইবার রিডাবলের ঠ্যালা।"
.
.
.
.
.
কেন জানি এখন মনে হয় ব্যাপারটা আসলে এমনই সিম্পল। কোন অবরোধে কোন পদ্ধতিতে কয়টা লাশ পড়বে, সেটা বোধহয় এভাবেই কোনো টুয়েন্টিনাইন'এর টেবিলে সিদ্ধান্ত হয়। 

হতেই পারে। লাশ নিয়ে টুয়েন্টিনাইন খেলাও নিশ্চয়ই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার! 

অভিশাপ


"...তরা বাইচ্চা থাকবি, আল্লাহর দরবারে হাত উঠায়া ভিক্ষা চাই যেন তরা আরো অনেক দিন বাইচ্চা থাকোস। 

তদের ছেলেমেয়েরা তদের চোক্ষের সামনে পুইড়া মরুক।

আল্লাহ তগোরে এই দিন দেখার আগে যেন মরণ না দেয়।

অভিশাপ দিলাম। আল্লাহর নামে কীরা কাইটটা তদের বংশনাশের অভিশাপ দিলাম।"

[ক্ষমতার লোভে মনুষ্যত্ব হারানো সকল হারামী রাজনীতিবিদের উদ্দেশ্যে নাহিদ-রবিন'এর মাএর অন্তর থেকে বের হওয়া এই চিত্কার - আমি শুনতে পাই, আপনি শুনতে পান। শুধু ওই শুওরের বাচ্চাগুলি শুনতে পায় না ক্যান?]  

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৩

হালের স্মার্টনেস:

হালের স্মার্টনেস:
-----------------

চলেন, আজকে আপনাদের স্মার্ট হওয়া শিখাই। 

রুল নং: ১

প্রথমেই যেটা করবেন, সেটা হলো, বাংলা বর্ণমালা থেকে "ব'এ শূন্য র'কে" শিফট-ডিলিট মেরে দিবেন। কখনই, ভুল কড়েও যেন "র" বলে ফেলবেন না; বলবেন "ড়অঅঅ"; বুঝেছেন? 

রুল নং: ২
মাঝে মাঝেই "আ"কার'কে জ-ফলা দিয়ে রিপ্লেস করবেন। লাইক, আগের লাইনটা পড়লেই বুঝবেন। ইট শুড বি "হ্যাসান", নট "হাসান"! ইট্স "ক্যাঠুড়ে", নট "কাঠুরে", ইট্স "ব্যাংলাডেশ", নট "বাংলাদেশ"; বুঝা গেসে?

রুল নং: ৩
আগের লাইনটা মনোযোগ দিয়ে পড়লেই ক্লু খুঁজে পাবেন। হুদাই-বেহুদাই "লাইক", "ইউ নো", "বেসিকালি" ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে হবে। আরো কিছু টার্ম মুখস্ত করতে হবে, লাইক ... "জি টি জি", "টি জি আই টি", "ডব্লিউ টি এফ" ইত্যাদি। বুঝে হোক, না বুঝে হোক, এগুলা যত্রতত্র মেরে দিবেন। নো টেনশন। 

রুল নং: ৪ 
ইদানিং আরেকটা সিম্পটম দেখছি। ইংলিশ ওয়ার্ড'এর মাঝখানে যদি "বি" বা "ব" থাকে, সেটাকে "ভি" দিয়ে রিপ্লেস করাটাও মনে হয় স্মার্টনেস বলে পরিগণিত হচ্ছে। ২/৩ জন মিডিয়া সেলেব্রিটি'কে বলতে শুনলাম "মোভাইল", "নোভডি", "অ্যাভসলিউটলি" ... সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এরা নিজেদের বলে "সেলিভ্রিটি" 

আপাতত এগুলো প্র্যাকটিস কোড়তে থ্যাকেন। ইউ নো, আই জিটিজি। 

ও, আরেকটা কথা। কথায় কথায় "লোল" ঝাড়তে ভুলবেন না কিন্তু ;) 

বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৩

ট্যাগ

অদ্ভূত ব্যাপার তো ভাই। হরতালের বিরুদ্ধে কথা বললেই দেখি আওয়ামীলীগের ট্যাগ ধরিয়ে দেয়!!!

ভাই থামেন। আওয়ামীলিগ যখন বিরোধী দলে ছিল, তখনও হরতালকে গালি দিতাম। হরতাল দিয়ে যে দেশের কোনো উন্নতি হয়না; সেই বোধ-বুদ্ধি অনেক আগে থেকেই হইসে আমার। হ্যা, বলতে পারেন, হরতাল দিয়ে ক্ষমতার বদল হয়। তাতে ভাই আমার কি? লাউ বদলে কদু হয়, কদু বদলে লাউ। আমি-আপনি হয় যদু, নাহলে মধু। 

গ্যাঞ্জামের মূল আসলে ফেইসবুক। ফেইসবুক না থাকায় তখন যখন আওয়ামীলিগ'কে গালি দিতাম, কেউ শুনত না, কেউ বিএনপির ট্যাগ'ও দিত না। এখন এই "এফ" নামক জিনিসটার কল্যানে যার যা মন চায় ট্যাগ লাগিয়ে সুখ খুঁজে নেয়। 

যত পারেন ট্যাগ লাগান। আমার অসুবিধা নাই। রাজনৈতিক ক্ষমতা হাসিলের জন্য যে-ই হরতাল দিবে, তারেই গালি দিব। ইনশা-আল্লাহ। 

তবে হ্যা, বাজে কথা বললে বা আজাইরা ত্যানা প্যাঁচালে নগদে ডিলিট; তারপর ব্লক। 

কারণ ... আমার ওয়ালে শুধুই আমার একনায়কতান্ত্রিক অধিকার চলে :) 

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৩

যতটা মেজাজ খারাপ হয় এখন...

জয়ীকে হিন্দিতে ডোরেমন দেখে পুটপাট হিন্দি বলে ফেলতে দেখলে মেজাজ খারাপ হতো; তবে এতটা নয় ...

আম্মাকে ফুল ভলিউমে জি বাংলার "রাশি" বা "অগ্নিপরীক্ষা" দেখে চোখের পানি ফেলতে দেখলে মেজাজ খারাপ হতো; তবে এতটা নয় ...

সারাদিন পর বাসায় ফিরে আগের রাতের খেলার হাইলাইট চলার সময় পূনম যখন নাইজেলা'র রান্না শিক্ষা দেখতে বসে, মেজাজ তখনও খারাপ হয়, তবে এতটা নয় ... .
.
.
.
.
.
.
যতটা মেজাজ খারাপ হয় এখন... 

যখন দেখি, আশেপাশের সব "অতি-সচেতন" নাগরিকগণ  টকশো'তে আসা মাননীয় স্পিকারদের অর্থহীন ত্যানা-প্যাচানো শুনে নিজ-নিজ ধারনাকে নিজের কাছেই আরো শক্ত-মজবুত প্রমান করে স্বস্তির হাসি নিয়ে ঘুমাতে যায়।  

আমরাই বাংলাদেশ কোনো "বিনোদনমূলক টিভি অনুষ্ঠান" না।

[এই পোস্টটা আমরাই বাংলাদেশ পেইজ থেকেও আপলোড করা হয়েছে। কেউ ডোনার হতে চাইলে ওই পেইজে প্রোসিডিওর বলা আছে। লেখাটা যত বেশি শেয়ার হবে, তত ডোনার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। বাকিটা আপনাদের উপর।]

যারা অনেকদিন ধরে রক্ত নিয়ে কাজ করছেন, তাদের কাছে ব্যাপারটা হয়ত এতদিনে নরমাল হয়ে গেছে। আমার তো জুম্মা-জুম্মা আট দিন, তাই ধাক্কাটা হজম করতে কষ্ট হচ্ছে।

৩ দিন আগে খুব কাছের এক বড় ভাই তার চাচীর জন্য রক্ত চাইল। বি নেগেটিভ। আমরাই বাংলাদেশকে যে কয়েকটা গ্রুপ দিনরাত সাহায্য করে যাচ্ছে রক্ত যোগার করে দিয়ে, তারা আপ্রাণ চেষ্টা করলো রক্ত যোগার করতে। প্রথম কয়েক ব্যাগ ম্যানেজও হলো। গতকাল আমার ওই ভাই আবার জানালো যে আরো রক্ত লাগবে, আমি সবাইকে আবার জানালাম। ওরাও চেষ্টা করলো; কিন্তু এবার আর যোগার হলো না। একসময় মেসেজ পেলাম, "The Patient expired a few minutes back... Innalillahe wa Inna Ilaihe Rajeoon! Razeeb, thank you so much for your tremendous support during need... And thanks to Aamrai Bangladesh..."

আবারও বলছি, যারা অনেকদিন ধরে মানুষের বিপদের সময়ে রক্ত ম্যানেজ করে দিচ্ছে, এমন ঘটনা হয়ত তাদের নিয়মিত ফেইস করতে হয়। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা প্রথম বলেই হয়ত বেশি খারাপ লাগছে। আমারও হয়ত সময়ের সাথে সাথে সয়ে যাবে এসব।

কিন্তু, ব্যাপারটা এমন হলো কেন? চাহিদার তুলনায় ডোনারের সংখ্যা এখনো এত কম কেন? যে ছেলেমেয়েগুলো রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে, আমি তো ওদের চিনি। ওদের চেষ্টায় তো কোনো খাদ দেখিনি একবারের জন্যও। ৪৮ হাজার মেম্বার এখন আমরাই বাংলাদেশ পেইজে। ডোনার কয়জন এর মধ্যে? অর্ধেক ডোনার হলেও তো জরুরি সময়ে এত হা-হুতাশ করতে হয়না।

একটা কথা পরিষ্কার করে আবার বলি। আমরাই বাংলাদেশ কোনো "বিনোদনমূলক টিভি অনুষ্ঠান" না। প্রতি পর্বে আমি আপনাদের সামনে আনন্দ দিতে বা আপনাদের মনোরঞ্জন করতে হাজির হই না। ছোট করে হলেও কিছু একটা করব বলেই এই অনুষ্ঠান। আপনরাই যদি এগিয়ে না আসেন, তাহলে কোনকিছু কোনদিনই বদলাবে না। যে ছেলেমেয়েগুলো রাতদিন খেটে রক্ত যোগাড় করছিল তারাও একসময় হাল ছেড়ে দিবে। সেটাই কি চান আপনারা?

কোনো পোস্ট শেয়ার বা লাইক দিতে অনুরোধ করায় ঘোর আপত্তি আমাদের। কিন্তু ডোনারের সংখ্যা বাড়াতে সেটা ছাড়া আর গতি নাই মনে হচ্ছে। একটু এগিইয়ে আসুন প্লিজ, আজকে আপনি এগিয়ে আসলে একদিন আপনার প্রয়োজনে আরেকজনকে ঠিকই পাবেন। 

ত্যানা-প্যাঁচানো

আমার হিসেবে গত কয়েক বছরের মধ্যে বাংলা ভাষায় সর্বশ্রেষ্ঠ সংযোজন হলো "ত্যানা-প্যাঁচানো" বাগধারাটি।

এই শব্দযুগলটি এতটাই শ্রুতিমধুর, তাত্পর্যপূর্ণ, শালীন এবং সহজবোধ্য; আমি রীতিমত "ত্যানা-প্যাঁচানো"র প্রেমে পরে গেছি। সর্বপরি, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নেতানেত্রীদের বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য, টকশো'তে বিজ্ঞজনদের জ্ঞানগর্ভ পর্যালোচনা - এসবকিছুকেই কি আশ্চর্য সুন্দর ভাবে সিমপ্লিফাই করে এক "ত্যানা-প্যাঁচানো" বাগধারাটি দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া যায় ... সত্যিই প্রশংসনীয়। 

এই বাগধারার প্রবক্তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হোক - এই লক্ষ্যে একটা ইভেন্ট খুলে ফেলবো কিনা ভাবছি। 

পাদটিকা: একটি সামান্য বিষয় নিয়ে আজাইরা পকরপকর করাকে "ত্যানা-প্যাঁচানো" বলে। উদাহরণ - এই স্টেটাসটি।