শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৩

টেন্স

আসুন, আপনাদের সহজ পদ্ধতিতে "টেন্স" শিখাই?

প্রেজেন্ট টেন্স : মনির 
পাস্ট টেন্স : বিশ্বজিত 
ফিউচার টেন্স : আপনি অথবা আমি 

হরতাল মোবারক হো। 

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৩

পুলিশ ভাইয়ারা, এদের ধরা কি এতই কঠিন?

ছোটবেলায় যখন টিফিন টাইমে স্কুল পালিয়ে ঢাকা কলেজের পুকুরে ঝাপাঝাপি করতে যেতাম, কতরকম বুদ্ধি'ই না করতাম চেহারা ঢেকে রাখার। একবারের কথা মনে আছে, ঝুম বৃষ্টির মধ্যে আমরা ৬/৭ জন স্কুল পালালাম; ঢাকা কলেজের মাঠ থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি - স্কুলের দোতলার বারান্দা থেকে আনোয়ারুল করিম স্যার আমাদের চেনার চেষ্টা করছেন। স্যার এবং আমাদের মাঝখানের দূরত্ব মিনিমাম কয়েকশ গজ তো হবেই, তার উপর ঝুম বৃষ্টি। নিজেকে যতই আশ্বস্ত করি যে স্যার নিশ্চই এতদূর থেকে আমাদের চিনবেন না, তবু কোনো লাভ হয় না। সারারাত ঘুমাতে পারি নাই ভয়ে, টেনশনে। 

এবং, পরদিন, ক্লাসে এসে করিম স্যার নাম ধরে ধরে আমাদের ওই কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে যান অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড স্যারের রুমে (আমাদের সময়ে স্কুলের সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা ছিল অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড স্যারের রুম)। বাকি গল্প নাহয় আর না'ই বললাম। 

একটু আগে টিভিতে দেখলাম দুইজন লোক একটা বাসে আগুন দিচ্ছে। ক্যামেরা তাদের দিকে তাক করে আছে দেখেও তারা বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। ধীরে-সুস্থে প্লাস্টিকের ক্যান থেকে পেট্রল (বা কেরোসিন) ঢাললো, চেক করে দেখল ফুয়েল ঠিকমত ছড়ানো হয়েছে কিনা, বাস থেকে বের হলো, তারপর ম্যাচের কাঠি ছুরে দিল। পুরোটা সময় ক্যামেরায় তাদের প্রাউড চেহারাগুলো দেখা গেল? একটু পর দেখলাম বাস'টা পুরাপুরি জ্বলে পুড়ে গেছে। 

বাংলাদেশ পুলিশে আনোয়ারুল করিম স্যারের মত কেউ নাই? আর যদি এদের পরবর্তিতে ধরা হয়েই থাকে, সেই কাহিনী মিডিয়াতে কেন কখনই দেখি না আমরা? 

পুলিশ ভাইয়ারা, এদের ধরা কি এতই কঠিন? 

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৩

জয় রাজনীতি, রাজনীতি জিন্দাবাদ

মনির তুমি রেডি হও। আবার ৩ দিনের হরতাল দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা কিছু মনিরকে পুড়িয়ে মারতে পারবো; তোমাকে আর একা থাকতে হবেনা। স্পেসিফিক কাউকে তোমার পছন্দ হলে জানাতে পারো, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তোমার প্রেফারেন্স'এর কথা জানিয়ে দিব। তবে, ব্যাপারটা কি জানো? এখন যে চেহারা দেখে তুমি তোমার বন্ধু সিলেক্ট করবা, তোমার ওখানে যেতে যেতে কিন্তু এই চেহারা আর থাকবে না। 

আমরা যখন পুড়িয়ে মারি, ভালো করেই মারি। চেহারা-ছবি সব পুড়িয়ে-ঝলসে কালো করেই মারি। 

চলুন আমরা সবাই মিলে মনের সুখে মনির'দের পুরাই।

হরতাল মোবারক সবাইকে।

জয় রাজনীতি, রাজনীতি জিন্দাবাদ। 

নাম বিভ্রাট

আমাদের ক্রিয়েটিভ হেড'এর নাম হাসিব। 

কিছুদিন আগে ক্লায়েন্ট সার্ভিসিং'এ একজন জয়েন করলো। তার নামও হাসিব।

পুরনো হাসিব কিছুতেই মানবে না যে এই অফিসে আরেকটা হাসিব থাকতে পারে। নতুন হাসিবের ভালো নাম হলো "ওমর হাসিব"। সুতরাং এই অফিসে তার নাম হলো "ওমর"। যদিও, প্রথম কিছুদিন হাসিব বলে ডাকই দিলে দুই বান্দা হাজির হয়ে যেত। 

কিছুদিন পর "আসিফ" নামে আরেকজন জয়েন করলো। সমস্যা আরো বাড়লো। আমি আমার রুমে বসে হাসিব বলে ডাক দিলে ৩ বান্দা এসে হাজির হয়। পুরনো হাসিব, অমর হাসিব এবং আসিফ। সমস্যার সমাধানে আবার এগিয়ে এলো ভালো নাম। আসিফের ভালো নাম "কাজী আসিফ"। সুতরাং এই অফিসে আসিফের নতুন নাম হলো "কাজী"। এবং ওমর হাসিবকে আবারও সাবধান করা হলো, যেন সে হাসিব ডাক শুনলেই দৌড় দিয়ে চলে না আসে। 

লেকিন ... পিকচার তো আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত ... 

ওমর হাসিব ফোটোগ্রাফি করে। ওদের একটা গ্রুপ আছে যারা বিভিন্ন ইভেন্টে ছবি তোলে। আমাদের একটা ইভেন্টের জন্য ওকে বলে হলো যেন ও আরেকজনকে সাথে নিয়ে এসে ফোটোগ্রাফিটা করে ফেলে। 

পরদিন ওমর একটা ছেলেকে নিয়ে আসলো। জিগ্গেস করলাম, কি নাম ভাই তোমার? 

হাসিমুখে সে জবাব দিল - "ভাইয়া, আমার নাম ওমর।" 

... ওরে রে ... কেউ আমারে পুইত্তালারে ... এক্কেরে জিন্দাপুইত্তালা ... 

[... ওমরের আজকে বৌভাত (নতুন ওমরের); কাজের ভেজালে যেতে পারছি না। দোওয়া থাকলো তদের দুইজনের জন্য। ভালো থাকিস।]

সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৩

কোঁত দাও বাবা, আরেকটু জোরে কোঁত দাও

রবিবার সকাল। নাস্তার টেবিলে আমরা। হঠাত ফোন বাজলো; অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্ট'এর ফোন। বউ'কে বললাম পুত্রকে নিয়ে পাশের রুমে যাও এন্ড প্লিজ   মেইক শিওর যেন ফোনে কথা বলার সময় কোনো ডিস্টার্ব না হয়। 

বউ রিলিজিয়াসলি কথা শুনলো, পুত্রকে পাশের রুমে নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। আমি শান্তিমত ফোনালাপ চালিয়ে যেতে থাকলাম। 

ফোনালাপের শেষ পর্যায়। খোদাহাফেজ বলার ঠিক পূর্ব মুহূর্ত। দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম, দেখি বউ ব্যস্ত ভঙ্গিতে কোনদিকে না তাকিয়ে ডাইনিং রুমের দিকে আসছে। আর বেশ উচ্চ-স্বরে পটি'তে বসা পুত্রকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলছে। 

খোদাহাফেজ বলতে বলতে আমার মহা গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্ট সাহেব যে ক'টি শব্দ শুনেছেন তা হলো:

"কোঁত দাও বাবা, আরেকটু জোরে কোঁত দাও ... " 

আরিফ আর হোসেন

আরিফ আর হোসাইন - একটি (মতান্তরে দু'টি) সমস্যার নাম: 

বেশ কড়াকড়ি সিকিউরিটি-ওয়ালা এক জায়গায় মিটিঙে গেছি আমি আর আরিফ ভাই। কথা ছিল মেইন গেটের বাইরে আমাদের নামে সিকিউরিটি পাস ইস্যু করা থাকবে, আমাদের শুধু কালেক্ট করে নিতে হবে। আরিফ ভাই গাড়ি ড্রাইভ করছিল, তাই তাকে গাড়িতে বসিয়ে আমি গেছি পাস কালেক্ট করতে। 

৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলাম লাইনে। তারপর আরো ৫ মিনিট বিভিন্ন খাতা/রেজিস্টার খুঁজে বিরক্ত অফিসার জানালো যে আমাদের নামে কোনো পাস ইস্যু করা নাই, আমরা যেন ভিতরে যোগাযোগ করি। যার সাথে মিটিং, তাকে ফোন দিলাম। বেশ বিব্রত হয়ে তিনি বললেন - "একটু ওয়েইট করেন রাজীব ভাই, আমি এখনি ইন্টারকমে ইন্সট্রাকশন দিয়ে দিচ্ছি।"

আমার সামনেই ইন্টারকমে ফোন আসল। ব্যাটা ফোন রাখতেই আমি বেশ কনফিডেন্টলি এগিয়ে গিয়ে বললাম "ভাই, ফোনটা মনে হয় আমাদের জন্যে এসেছে তাই না?" চোক্ষা মুখ করে ভদ্রলোক প্রশ্ন করলেন - "ভাই, আপনার নাম বলেন।" বললাম "রাজীব হাসান চৌধুরী"। ফিচেল একটা হাসি হেসে ব্যাটা বললো "জ্বি না ভাই, আপনার নামে কোনো ফোন আসে নাই।" 

"কি বলেন? এইমাত্র আপনাকে মানিক সাহেব ফোন দেই নাই?"
"জ্বি, মানিক সাহেবই ফোন দিসেন। কিন্তু আপনার নাম বলে নাই।"
"আপনি ঠিক শুনেছেন ভাই? দুইজনের কথা বলেন নাই মানিক সাহেব?"
"জ্বি বলসেন, কিন্তু তাদের মধ্যে আপনার নাম নাই।"

আমার বিরক্তি তখন চরমে। 

"দুইজনের নাম কি কি বলেছেন একটু কষ্ট করে বলবেন?"
"জ্বি। আরিফ আর হোসেন।"
"ঠিক আছে, বুঝলাম। আরেকজনের নাম কি বলেছে?"
"আরে ভাই, কথা বুঝেন না নাকি? বললামই তো মানিক সাহেব 'আরিফ' আর 'হোসেন' নামে দুইটা পাস ইস্যু করতে বলসে।" 

কেউ আমারে পুইত্তালা রে, এক্কেরে জিন্দাপুইত্তালা। 

আমার ডেসপারেট চেষ্টা - "ভাই আমার আরিফ আর হোসেন দুই'জন মানুষ না রে ভাই, ওনারা একজন মানুষ। ওনার নামই হইলো আরিফ আর হোসেন। আমি আরেকজন। দয়া করে কি আমার নামে একটা পাস ইস্যু করা যায়?"

ব্ল্যাঙ্ক লুক দিয়ে উনি প্রশ্ন করলেন, 
"তাহলে আপনে কে?" 

আমারে কেউ পুইত্তালা রে, এক্কেরে জিন্দাপুইত্তালা। 



রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৩

আমি একটা মহা-কুফা


আমি মাঠে গিয়ে কোনদিন বাংলাদেশকে জিতাতে পারি নাই। শেষবার মাঠে গেসিলাম বড় ভাইদের আশ্বাসে "ধুর ব্যাটা, সব কুসংস্কার। আমাদের সাথে চল, দেখবা আজকে ঠিকই জিতে ফিরবা।" 

সেটা ছিল ওয়ার্ল্ড কাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ৬৭ রানে অল আউট হওয়ার খেলাটা। 

এরপর থেকে আর বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে  যাই নাই। ফ্রি টিকেট পেয়েছি, এরে-তারে গিফট করে দিয়েছি। আমার কাছের মহলে এ ব্যাপারটা গোপন কিছু না। এমনও অনেকবার হয়েছে, আমি অফিসে বসে খেলা দেখছি, বাংলাদেশ খারাপ খেলছে; আমার মেয়ে ফোন করে রীতিমত চার্জ করেছে "বাবা, তুমি স্টেডিয়ামে যাও নাই তো? খবরদার, স্টেডিয়ামের আশেপাশেও যেন তোমাকে দেখা না যায়। সাবধান।" 

এবার প্রথম ওয়ান ডে টিভিতে দেখেছি। সেকেন্ড'টার সময় মাঝে মাঝে টিভিতে উঁকি দিয়ে খবর নিয়েছি। আমার বদ্ধমূল ধারণা, আমি একটা মহা-কুফা। সবাইকে নিয়ে মজা করে খেলা দেখলেই আমরা হারবো; তাই আমি গোপনে খেলা দেখি। আজকের খেলায় ওরা ৩০৭ করার পরও মন বলছিল আমরাই জিতব। অফিসে ফাটিয়ে সবাই খেলা দেখেছে, আমি বাইরে বাইরে থেকেছি, মাঝে মাঝে রেডিওতে চুপিচুপি কমেন্ট্রি শুনেছি। শেষ দুই ওভারের আগে টিভির সামনেই যাই নাই। (ততক্ষণে মোটামুটি আমরা জিতেই গেছি) :) 

দরকার নাই ভাই আমার মাঠে যাওয়ার, দরকার নাই সবার সাথে মজা করে খেলা দেখার। আমার কুসংস্কার'এরই জয় হোক। আমি একা একা আঙ্গুলের অদৃশ্য নখ কামরাতে কামরাতে বাংলাদেশকে জিতাতে থাকি। জিতে যাওয়ার পর চিল্লাইতে পারলেই আমি খুশি।