সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০১৪

"ফ্রেন্ডস ফর দা পুওর পিপল"

কিছুদিন আগে আমার অফিসের "ওয়ার্ল্ড কাপ ফিভার" নিয়ে একটা ভিডিও আপলোড করেছিলাম, মনে আছে?

আজকে ওই ভিডিওটা করার পিছনের একটা সুন্দর গল্প বলি।

আমরা হঠাৎ করেই ঠিক করি অফিসের ফুটবল নিয়ে পাগলামি নিয়ে একটা ভিডিও করে ফেলার। ভিডিওটা কেমন হবে, কি কি থাকবে এসব নিয়ে যখন প্ল্যান করতে বসেছি, আমার কলিগ রাজীব একটা জোশ আইডিয়া দিল।

"ভাই, পাগলামিটা শুধু অফিসের মধ্যে আটকে রাখতে ইচ্ছা করছে না। আমরা কি এই উসিলায় কিছু মানুষের মধ্যে খুশি ছড়িয়ে দিতে পারি না?"

---------

যেই ভাবা, সেই কাজ।

ভিডিওটা করার সময় শুরু হল অফিসের ভিতর চাঁদাবাজি। কোন নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট নাই, যে যা পারে তাই দিবে। আমাদের এক্সপেকটেশন খুব বেশি কিছু না। রাজীবের প্ল্যান হল, যা টাকা উঠবে তা দিয়ে কিছু বল আর জার্সি কিনে এমন কিছু বাচ্চাদের দিব, যারা এটুকু পেয়েই অনেক খুশি হবে।

--------

ঢাকা শহরে ফাসেরটেক বলে একটা জায়গা আছে, জানেন? আমিও আগে জানতাম না।

এই ফাসেরটেকে ডিনো হালদার নামে এক ভদ্রলোক সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের জন্যে একটা স্কুল চালান। ডিনো পেশায় একজন দর্জি। খুব ছোট করে শুরু হলেও স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বর্তমানে ১৮০ জন। ছাত্রছাত্রীরা এখানে বিনা পয়সাতে পড়ে। ডিনো তার পরিচিত মানুষজনের কাছ থেকে টুকটাক সাহায্য নিয়ে আর নিজের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে স্কুলটাকে চালিয়ে যাচ্ছে।

--------

আমরা সিদ্ধান্ত নেই এই স্কুলের বাচ্চাদের একটু হলেও খুশি করবো। ওদের সাথে যোগাযোগ হল, ওরা রাজি হল। পুরা আরেঞ্জমেনটের দায়িত্ব দেয়া হল আমার আরেক কলিগ রাব্বি'কে।

রাব্বি আর তার দল কিভাবে কিভাবে যেন ম্যাজিক দেখিয়ে দিল। আমাকে ওদের প্ল্যান শেয়ার করল।

"ভাইয়া, প্ল্যান ইজ, আমরা ওদের স্কুলে যাব। বাচ্চাদের মধ্যে একটা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ হবে। আমরা বল, জার্সি, খাবারদাবার নিয়ে যাব। স্কুলের পাশে একটা মাঠ আছে। ওইটা সাজাব। খেলা শেষে বল, জার্সি সব ওদের দিয়ে আসব।"

তারপর একটা হাসি দিয়ে বলল -

"আরও একটা সারপ্রাইজ আছে। ওদের জন্য একটা টিভি আর একটা ডিভিডি প্লেয়ার কিনে ফেলছি। ওগুলাও ওদের স্কুলে গিফট করে আসবো। ওরাও তাহলে ওয়ার্ল্ড কাপ দেখতে পারবে।"

আমি তো পুরাই হব্দ।

"এতো টাকা পাইলা কই?"

"ভাই, চিন্তা কইরেন না। চুরি-ডাকাতি করি নাই। অফিসের পোলাপান'রে হালকা ছিল দিসি। ওতেই টাকা উঠে গেসে। আর এতে কেউ রাগও করে নাই।"

----------

গত ২৮ জুন, শনিবার, অফিস ছুটির দিনে, আমাদের ১৫/২০ জনের একটা গ্রুপ মাল-সামান নিয়ে হাজির হয় "ফ্রেন্ডস ফর দা পুওর পিপল" স্কুলের পাশের মাঠে। সকালের বৃষ্টিতে ভিজে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি পরা কালো-কালো ছেলেগুলি ফাসেরটেকের মাঠ কাঁপিয়ে ফেলে মুহুর্মুহু চিৎকারে।

কখনো জার্সি পাওয়ার আনন্দে, কখনো গোল করার উত্তেজনায়, কখনো বা টিভি-ডিভিডি প্লেয়ারের র‍্যাপিং পেপার খোলার খুশিতে।

---------

উপসংহারঃ

১। দুইজনের ক্যামেরায় ওইদিনের প্রায় ১২ গিগাবাইট ভিডিও ফুটেজ আছে। যেগুলা নিয়ে একটা ছোট ভিডিও রেডি করার কথা। দায়িত্ব যাকে দেয়া হয়েছে, সে মহা ফাঁকিবাজ, এখনো কিছুই করে নাই। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম রাজীব হাসান চৌধুরী। উনি কথা দিয়েছেন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ভিডিওটা কমপ্লিট হবে। এবং সেটা Ogilvy Bangladeshএর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে আপলোড করা হবে।

২। কিছু ছবি অফিসের ফেইসবুক পেইজ থেকে দু'এক দিনের মধ্যেই আপলোড করা হবে। ওখান থেকে বাচ্চাদের খুশির ছবি দেখে নিতে পারেন।

৩। আমার অফিসটা আর অফিসের মানুষগুলা আসলেই অনেক জোশ। এত তাড়াতাড়ি জায়গাটাকে ভাল লাগতে শুরু করবো, এক্সপেক্ট করি নাই।

শনিবার, ৫ জুলাই, ২০১৪

শুভ জন্মদিন জীয়ন

বাপ আমার,

আমি জানি, খুব শীঘ্রই তুই আমাকে একই সাথে ৭ হাটে বেচে আসতে পারবি । আল্লাহর অশেষ কৃপায় তুই দিনদিন যে মাপের ত্যান্দরে পরিণত হচ্ছিস, ম্যাট্রিক পাশ করতে করতে তুই যে কি হবি, সেটাই এখন দেখার বিষয়। (বিশাল বড় দীর্ঘশ্বাস) ...

যাই হোক বাপ, তোর কাছে তোর এই বোকাসোকা বাপের একটাই অনুরোধ - যেখানেই বেচিস, ভাল দামে বেচিস। মগজ হোক বা শরীর, দুই ক্ষেত্রেই আমি কিন্তু বেশ ওজনদার মানুষ।

শুভ জন্মদিন জীয়ন। তোর তো অনেক বুদ্ধি, তাই নিশ্চয়ই এই দুই বছরে বুঝে গেছিস যে তোকে আমি অনেক ভালবাসি।

ললিপঅঅঅঅপ

ছেলের বয়স মাত্র দুই, কিন্তু মেজাজ পঞ্চান্ন বছরের বুড়ার মত।

কোন কিছু মনমত না হলেই চোখ গরম করে "পঅঅঅঅপ" করে ঝারি দেয়। যখন-তখন, যার-তার সামনে। বাবা-মা হিসেবে এ নিয়ে আমরা ভালোই বিব্রত।

কি লজ্জার কথা বলেন তো, হাঁটুর বয়সী পোলা, যদি মেহমানের সামনে "পঅঅঅঅপ" মেরে দেয়, বেইজ্জতি হয়ে যাবে না?

শান্তির কথা হল মেয়ে আমার বিশাল বুদ্ধিমতি। বরাবরের মত এবারও সমস্যার সমাধান করে ফেললো।

কয়েকটা সেশন নিয়ে সে জীয়নকে শিখাতে সক্ষম হল, যে "পঅঅঅঅপ" হল ছোট বকা, এটা দিলে খুব একটা লাভ হয় না। বড় বকা হল "ললিপঅঅঅঅপ" - যেটা দিলে বাবা-মা ভয়ে হিসু করে দিবে।

ব্যাস, পুত্র আমার মহা খুশি। "পঅঅঅঅপ" পুরাপুরি ভুলে গেল, এখন রেগে গেলেই সে চোখ পাকিয়ে বলে "বাবাআআআ, মাআআআ, ললিপঅঅঅঅপ" ।

আমরা হেসে দিলে সে আরও গরম হয়ে বলে, "ললিপঅঅঅঅপ বলসি কিন্তুউউউ"।

আমরা তখন অনেক ভয় পাই। আমাদের ভয় দেখে ছেলের রাগও কমে যায়।

আহ, আই অ্যাম সো প্রাউড অফ মাই গার্ল 

"8 person. 600 KG"

"8 person. 600 KG"

এটা আমার মত "ভাল স্বাস্থ্যের" অধিকারী মানুষদের জন্য বড়ই বিব্রতকর একটা সাইন, যা বেশির ভাগ লিফটের ভিতরেই থাকে।

পাবলিক লিফটে উঠেই আমি "ইয়া নফসি, ইয়া নফসি" করতে থাকি। আমি সহ ৫ জন উঠলেই আমি দোআ করতে থাকি যেন লিফটে আর কোন লোক না ওঠে।

কখনো কখনো বেঁচে যাই। কিন্তু, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাঁচি না।

সাধারণত ৬ নম্বর লোকটা ওঠার সাথে সাথেই লিফট প্যাঁ প্যাঁ করে অ্যালার্ম দিতে থাকে, "ওভারলোড,ওভারলোড"।

তারপরের কনভারসেশনগুলা সাধারণত কপি-পেস্ট, সেইম টু সেইম।

ভিতরের একজন ৬ নম্বর লোকটাকে লিফট থেকে নেমে জেতে বলবে। লোকটা পাত্তা না দিয়ে লিফটে উঠে পরবেন। এদিক-সেদিক নাড়াচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে অ্যালার্ম বন্ধ করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু কোন কিছুতেই কোন কাজ হবে না।

তারপর তিনি বিরক্ত হয়ে গজগজ করতে করতে নেমে যাবেন।

একজন বলবেন, "লিফটের অবস্থা তো পুরাই কেরোসিন। লেখা ৮ জন, ৫ জন উঠতে না উঠতেই ওভারলোড। কোন মানে আছে?"

আরেকজন বলবে, "এই ৫ জনে ৬০০ কেজি হয় ক্যামনে? আজাইরা লিফট একটা।"

ঠিক তখনি...

ঠিক তখনি...

তাদের একজনের নজর পরবে আমার উপর। মোবাইল ফোনে এসএমএস পড়ার ভান করতে করতে আমি তখন শিওর হব - মনে মনে জপতে থাকা "ইয়া নফসি" আবারও ফেল করেছে।

ফিচেল একটা গা জ্বালানি হাসি দিয়ে ভদ্রলোক বলবেন, "ওহ, না না, লিফট ঠিকই আছে। ভাই মোটামুটি ৩ জনের প্রক্সি দিয়ে দিসেন। হে হে।"

বাকিরাও তখন "নতুন চোখে" আমাকে মাপতে থাকে।

কি আশ্চর্য!!! একেকজনের চেহারা একেকরকম। কিন্তু সবার ফিচেল হাসিটা হুবহু এক। পুরাই কপি-পেস্ট!

...
...
...
...
...

"8 person. 600 KG"

ফাইজলামির একটা সীমা থাকা উচিত।

যুক্তবর্ণ

মেয়ের ফাইনাল পরীক্ষার খাতা দিয়েছে। মাশাল্লাহ, ভাল রেজাল্ট করেছে।

বাপসুলভ পাকনামি করতে হয়ে বলে খাতাগুলি নেড়েচেড়ে দেখছি। বাংলা খাতা দেখে আক্কেল গুড়ুম।

প্রশ্ন হল "যুক্তবর্ণ ভেঙ্গে দেখাও ও দুটো করে শব্দ লিখ"

"ণ্ঠ" - মেয়ে লিখেছে "ণ + ঠ", "কণ্ঠ" আর "গণ্ঠ"। (টিচার প্রথমটায় নম্বর দিয়েছে, দ্বিতীয়টায় গোল্লা।)

"গ্ধ" - মেয়ে লিখেছে "গ + ধ", "মুগ্ধ" আর "বগ্ধ"। (যথারীতি টিচার প্রথমটায় নম্বর দিয়েছে, দ্বিতীয়টায় গোল্লা।)

আমি মেয়েকে ডাকলাম। "কাহিনী কি মা? গব্দ, গণ্ঠ ... এইসব কই পাইসস?"

জবাব পেলাম, "প্রশ্নটা ঠিকমত পড়ে তারপর ঝাড়িটা মারলে খুশি হতাম। প্রশ্নে বলা ছিল দুটি শব্দ লিখতে হবে। মিনিংফুল শব্দ লিখতে হবে সেটা তো কোথাও বলে নাই। গব্দ, গোব্দা, গণ্ঠ, মণ্ঠ ... যাই লিখতাম, টিচারের উচিত ছিল সবকিছুতেই নম্বর দেয়া। বাদ দাও বাবা, রেজাল্ট যেহেতু ভাল হয়েছে, তাই টিচারকে কিছু বলার দরকার নাই।"

ইয়ে মানে, আমি কিন্তু পুরাই হব্ধ হয়ে গেলাম।

*সাক্ষ্যপ্রমাণ কমেন্টে দেয়া হল

শালার বউ

আমার শালার বউ গত ২ সপ্তাহ ধরে তার মা'এর বাসায়।

বউ'কে জিজ্ঞেস করলাম -

"কাহিনী কি? তোমার ভাইয়ের বউ মা'এর বাড়িতে এতদিন কি করে?
"ওর মা'এর বাসা খালি। বাবা-মা'র দেখাশোনা করার কেউ নাই। তাই গেছে।"
"ক্যান? বাসা খালি ক্যান?"
"কারণ, ওর ভাইয়ের বউ তার মা'এর বাড়ি গেছে।"
"ওর ভাইয়ের বউ তার মা'এর বাড়ি কেন গেছে?"
"কারণ, ওনার বাসাও খালি। বাবা-মা'র দেখাশোনা করার কেউ নাই।"
"কেন? ওনার বাসার আবার কি হইসে?"
"উফফ, ওনার বাসাও খালি। কারণ ওনার ভাই'এর বউও তার মা'এর বাড়িতে ..."

...

জানি, পুরাই ইররেলেভেন্ট; তারপরও একটা লাইন মাথায় আসছে;

"আড়তদারদের ওই জাল ছিড়া বাইর হইতে পারে নাই আমার বাবা, তার বাবা, তার বাবা ..."

অশুদ্ধ ভাষা

ছোটবেলায় অশুদ্ধ ভাষায় কথা বললে চরম ঝাড়ি খেতাম খালাদের কাছে।

একবার স্কুলে ফুটবল খেলতে গিয়ে পা'এর নখ উঠে গেল। রক্তমাখা পা নিয়ে বাসায় ঢুকতেই পড়লাম ছোট খালার সামনে।

"পা কাটল কিভাবে তোমার?"

"রাস্তায় উশটা খাইসি।"

"উশটা???!!! উশটা কি জিনিশ? ঠিক মত কথা বল।"

নখ ওঠার ব্যাথা, খালার ঝাড়ি - সব মিলিয়ে তখন এলোমেলো অবস্থা আমার। হাজার খুঁজেও উশটা'র শুদ্ধ ভার্শন খুঁজে পেলাম না।

"ইয়ে মানে, রাস্তায় উশটো খেয়েছি।"

আমার শুদ্ধ ভাষা ব্যাবহারের এই নাদান প্রয়াসে "উশটা" বলার অপরাধ মাফ হয়ে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এই "উশটো" নিয়ে পরবর্তী কয়েকদিন অনেক হাসাহাসি সহ্য করতে হয়েছিল আমাকে।

------

বর্তমান সময়ের একটা কনভারসেশনকে যদি "শুদ্ধ" ভাষায় ট্রান্সলেট করি, তাহলে কি এমন দাঁড়াবে?

"পাশের ফ্ল্যাটের ছেলেটা তো দেখি পুরাই বাদামে। শুদাই সারাদিন টো-টো করে ঘোরে, কাজ-কর্ম তো কিছু করতে দেখি না।"

"তাতে তোমার প্রবলেম কি? আজারে যারতার পারসোনাল লাইফে বামহাত হাঁদিয়ে দেয়ার খাসলতটা তোমার গেলই না।

"বলো কি মমিন? তোমার কথা শুনে তো পুরাই তব্দ খেয়ে গেলাম। ত্যানা-প্যাঁচানো তো আমি তোমার কাছ থেকেই শিখলাম।

"অইত্তেরি। সব দোষ এখন আমার! বাহ, ভাল তো। ভাল না?"

------

ওরে, তোরা কেউ আমাকে মেরে ফেলছিস না কেন রে!!!

------

অ্যাপেনডিক্সঃ

বাদামে - বাদাইম্মা
শুদাই - হুদাই - অ্যাপ্লাইং দা সেইম লজিক, যেভাবে শালার ছেলে বিকেইম হালার-পো)
আজারে - আজাইরা
হাঁদিয়ে - হান্দাইয়া
খাসলত - খাইস্লত
তব্দ - তব্দা (এইটা কি আসলে "স্তব্ধ" থেকে এসেছে?)
বলো কি মমিন - কস কি মমিন?
ত্যানা প্যাঁচানো - প্লিজ সামবডি হেল্প মি, ত্যানা-প্যাঁচানো'র শুদ্ধ কি হবে???
অইত্তেরি - Arif R Hossain, আপনার সাহায্য প্রয়োজন