সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৪

ক্যান্সার ডায়েরি - পৃষ্ঠা ৪

ক্যান্সার ডায়েরি - পৃষ্ঠা ৪
-------------------------

২১ জানুয়ারি দিবাগত রাত ৩টা তিপ্পান্ন মিনিটে মা'জননী একখান মাস্টারপিস প্রসব করলেন। 

টানা এক ঘন্টার ক্রমাগত কাশিতে শরীরের সকল শক্তি শেষ করে ফ্যাঁশফ্যাঁশ করে আমার কানে তিনি যা বলার চেষ্টা করলেন তার ভাবার্থ হলো - "তার জন্যে আমাদের নাকি অনেক কষ্ট হচ্ছে!" 

পুরাই এইচএইচপিকেজি।  আমি পুরাই মাননীয় স্পিকার! 

পেটের ভিতরে থেকে ১০ মাস আর বাইরে থেকে ৩৭ বছর বিরতিহীন জ্বালানোর পরও যদি আম্মার মুখ থেকে এই কথা শুনতে হয় যে "আমরা" তার জন্যে "কষ্ট" করছি - আবেগে কাইন্দালাইতে ইচ্ছা করেনা?  

মা জননী গো, জি বাংলার সিরিয়াল দেখলে এর থেকে ভালো স্ক্রিপ্ট বের হবেনা গো।

সো, এইসব পুতুপুতু ডায়লগ ছাড়ো। আর তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। 

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৪

ক্যান্সার ডায়েরি - পৃষ্ঠা ৩

ক্যান্সার ডায়েরি - পৃষ্ঠা ৩
-------------------------

আজকে আপনাদের শোনাব আমরা কতখানি "ক্রিয়েটিভ ফ্যামিলি", তার সামান্য একটা নমুনা। 

আম্মার গলার পাইপের ব্যাপারটা তো এখন মোটামুটি আপনাদের জানা যে, আম্মা এখন নাক-মুখের বদলে গলার পাইপ দিয়ে শ্বাস নেন। এই যে "রোল-চেইঞ্জ" - তা নিয়ে আম্মার নেতৃত্বে শুরু হলো ব্রেইনস্টর্মিং। 

"এই যে নাক-মুখের কাজটা গলা'কে হ্যান্ডওভার করা হলো, এমন করে যদি খাওয়ার কাজটা মুখের বদলে কানকে দেয়া হয়, তাহলে কি হবে? আমাদের কি তখন দিনে দুইবার কান-ব্রাশ করতে হবে? একটা মানুষ কানের মধ্যে স্ট্র লাগিয়ে মিরিন্ডা খাচ্ছে - সিনটা কেমন হবে? ..."

"স্বাদ নেয়ার জন্যে কি তাহলে জিব্বাটা কানের মধ্যে সেট করতে হবে? এহহ, ক্যামন লাগবে কান থেকে লকলক করে একটা জিব্বা বের হয়ে আসছে এইটা দেখতে? ..." 

"চোখের বদলে আমাদের যদি দাঁত দিয়ে দেখতে হয়, তাহলে কিরাম হবে? দাঁতের চশমাকে কি চশমা বলা হবে, নাকি "দাঁতমা"? চোখের পাতি ফেলার বদলে তখন কি আমরা ঘনঘন গাপ্পি মাছের মত ঠোঁট খুলবো আর বন্ধ করব? তখন কি চৌধুরী জাফরুল্লা শরাফত বলবেন - দাঁতের পলকে বল চলে গেল সীমানার ওয়াইরেএএএএ ..."

এন্ড  ... হিয়ার কামস দা কিলার ...

"হোয়াট এবাউট হাগু? এই মহান কাজটা কাকে দেয়া যায়? নাক? মুখ? ইয়াক থুঃ! নাকি স্পাইডারম্যান'এর মত কব্জি থেকে, পুচুত-পুচুত করে? (লিকুইডে তো প্রবলেম নাই, কিন্তু কষা হলে?) নাকি হাঁটু থেকে? বাম পায়ের বুড়া আঙ্গুল? ইয়াক থুঃ! ইয়াক থুঃ ! ইয়াক থুঃ ! ..."

চলতেই থাকলো ক্রিয়েটিভ ঝড়, একের পর এক আইডিয়া .. তুক্ষর  তুক্ষর! যার ৯০%ই এখানে বলা সম্ভব না।

আম্মা খালি মুচকি মুচকি হাসে। 

কিপ থিঙ্কিং। বেশি পচা বুদ্ধি আসলে সেটা নিজের মধ্যেই রাখেন। আম্মাকে কিন্তু সব কমেন্ট পড়ে শোনানো হয়। তাই, সবকিসু সবখানে শেয়ার না করাই ভালো ;)  

ক্যান্সার ডায়েরি - পৃষ্ঠা ২

ক্যান্সার ডায়েরি - পৃষ্ঠা ২
--------------

পোস্ট অপারেটিভ থেকে আম্মাকে কেবিনে দেয়া হয়েছে। আম্মার সাথে তখন শুধু আমি একা।

আম্মার জেনারেল এনেসথেসিয়ার ঘোর তখন পুরাপুরি কাটেনি, টাল-টাল ভাব।  কথা বলার চেষ্টা করতে গিয়েই খেয়াল করলেন যে গলা দিয়ে তো শব্দ বের হবেনা। শিট।  

বাট, আমরা তো "আনডু" অপশন নাই বলে আফসোস করি না।  ইমিডিয়েটলি মা-পোলা শুরু করলাম "রিফ্রেশ" বাটন টেপা :) 

শুরু হলো আমাদের "গিভ আস আ ক্লু" খেলা। আম্মা ঠোঁটের সামনে হাত এনে তালু বাঁকিয়ে ইশারা করে, আমি বুঝি যে আম্মা পানি খাবে। চোখ বুজে ঘাড় এলিয়ে দেয়, আমি বুঝি যে আম্মা ঘুমাবে। নতুন এই খেলা আমরা দু'জনই এনজয় করতে শুরু করলাম। 

কিন্তু হঠাতই আম্মার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকলো। গলার পাইপ দিয়ে ঘরঘর শব্দ, আমি টেনশনে পরে যাই।  আম্মা মুখের সামনে হাত আনে, আমি বলি "পানি খাবা?" আম্মা নাবোধক মাথা নাড়ে।  আবার হাত দিয়ে ইশারা করে।  "টিস্যু লাগবে?" আবারও নাবোধক সিগনাল।

এদিকে আম্মার চেহারায় কষ্টের ছাপ আরো বাড়ছে, আমি অসহায় বোধ করতে থাকি।

আম্মা চেষ্টা চালিয়ে যায়, নাকের সামনে হাতের তালু গোল করে ক্লু দিতে থাকে। আমি হঠাত বুঝে যাই - আম্মার অক্সিজেন লাগবে। এক লাফে সকেট থেকে অক্সিজেনের মাস্ক তুলে নেই, নব ঘুরিয়ে অক্সিজেন চালু করি, এক মুহূর্ত দেরী না করে আম্মার নাকে অক্সিজেন মাস্ক চেপে ধরতে যাই।  

ইয়ে মানে ... চোখের চাহনি দিয়ে কাউকে কখনো চট্কানা মারতে দেখেছেন? আমি ওদিন দেখেছি। 

আম্মার চোখের চাহনির ট্রান্সলেশন করলে যা দাঁড়ায়, তা হলো - "ছাগলের বাচ্চা ছাগল, অক্সিজেন মাস্ক নাকে ধরসোস ক্যান? আমি কি এখন নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নেই নাকি রে বলদ! গলায় ধর, গলার পাইপের সামনে ধর।" 

[পাইপ নিয়ে আরো গল্প... আসছে ...]

পূনশ্চ: এরপর থেকে আমরা গলার পাইপের মাধ্যমে আম্মাকে অক্সিজেন দেই এবং আম্মা ছাগলের বাচ্চা ছাগলটার দিকে তাকিয়ে ফিচেল হাসি দিয়ে বুকভরে শ্বাস নেন। 

ক্যান্সার ডায়েরি - পৃষ্ঠা ১

ক্যান্সার ডায়েরি - পৃষ্ঠা ১
--------------

লাস্ট ৭ দিনে অনেক কিছু হলো।  

আম্মা'র ক্যান্সার ধরা পড়ল।  গলায়।  ল্যারেঞ্জিয়াল ক্যান্সার।  মডারেটলি ডিফারেনশিয়েটেড। 

১৫ তারিখ রাতে বায়োপসির জন্যে আম্মাকে একটা সার্জারির ভিতর দিয়ে যেতে হলো। ক্যান্সার'টার জন্যে আম্মার শ্বাসনালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তাই ট্রাকেসট্রমী নামক একটা প্রসেসের মাধ্যমে আম্মার শ্বাসনালী থেকে একটা নল বাইরে বের করে দেয়া হলো। 

৬৫ বছর নাক আর মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেয়ার পর আম্মা এখন গলার নল দিয়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। 

এই নলটার জন্যে তার পক্ষে কথা বলাটা বেশ কঠিন পরিশ্রম এবং কষ্টের ব্যাপার হয়ে গেছে। ওনাকে তাই হাতের ইশারা এবং কাগজে লিখে আমাদের সাথে কথোপকথন চালাতে হচ্ছে।  

আজ তার এমআরআই করানো হবে।  তারপর ডাক্তাররা ডিসাইড করবেন পরবর্তী চিকিত্সা কেমন হবে।  

.................................

বাই দা ওয়ে, আমরা কিন্তু বেশ মজাতেই আছি।  সারাদিন সারারাত আমরা সবাই আম্মার সাথে থাকি, ইশারায় বা লিখে লিখে আড্ডা মারি। অফিস যাই না, মিটিং করিনা - আম্মার পাশেপাশে থাকি। শুধু এই ট্রাকেসট্রমী টিউব নিয়েই প্রতিদিন ডজন-ডজন মজার কাহিনী হচ্ছে। ধীরে ধীরে সেসবও লিখব। 

কেন লিখব? কারণ আছে।  এখন পর্যন্ত যতজনই আম্মার খবরটা শুনেছেন, তাদের রিয়াকশন ছিল ভয়াবহ। "ক্যান্সার" শব্দটাকে আমরা বোধহয় আজাইরাই একটু বেশি পাত্তা দেই।  আমার বাসায় ক্যান্সারের আসা-যাওয়া আজকে থেকে না।  আমার নানু ক্যান্সার নিয়ে বেঁচে ছিলেন দশ বছরের বেশি, আমার খালা ক্যান্সারকে দুই পয়সা দামও দেন নাই।  খালা দিব্বি ফেইসবুকিং চালিয়ে যাচ্ছেন, তার ক্যান্সার কঅঅবে মরে ভূত!   

সময়মত ঠিক চিকিত্সা হলে ক্যান্সার ঠিক হয়ে যায়।  আম্মারটাও হবে।  সো, হুদাই মন খারাপ করে থাকার মত মানুষ আম্মাও না, আমরাও না।  আমার পরের স্টেটাসগুলির জন্যে রেডি থাকেন। কথা দিলাম, অনেক মজা পাবেন।

আর এই মজার বিনিময়ে আম্মার জন্যে একটু দোআ করবেন, তাহলে আম্মা আরেকটু দ্রুত সুস্থ হবেন :) 

আমার হিসাবটা খুব ক্লিয়ার রে ভাই। লাইফে "আনডু" কমান্ড কাজ না করলেও "রিফ্রেশ" কমান্ডটা খুব ভালো কাজ করে। আমরা তাই "আনডু"র জন্যে হা-পিত্যেশ না করে, সমানে "রিফ্রেশ" টিপে যাচ্ছি :) 

সো? লেট্স জিন্দাপুইত্তালাইমুউউউ দা ক্যান্সার  ... ব্রিং ইট অন!

শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৪

শত্রুতা

একটা ঘটনা শুনে চোখের সামনে স্কুল জীবনটা ভেসে উঠলো। ঘটনাটা পরে বলি, আগে একটু স্কুল থেকে ঘুরে আসি।  

----------------------------------

আমরা মনে হয়, স্কুল জীবনের প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে মারামারি-ঝগড়াঝাটি করেছি। 

আবাহনী বনাম মোহামেডান। পুরা ক্লাস দুই ভাগ। সে কি মারামারি! কিসের বেস্ট ফ্রেন্ড? পলাশ-সালেহ-করিম আবাহনী; আমি-ঠাকুর-ফয়সাল-মাসুদ মোহামেডান - তার মানে ওরা আমাদের জাত-শত্রু। লাগ মাইরপিট। কোপাআআআআ শামসু। 

পরদিন ইন্ডিয়া ভার্সেস পাকিস্তান। আমি-পলাশ ইন্ডিয়া; ফয়সাল-মাসুদ পাকিস্তান। কিসের ফ্রেন্ডশিপ! মাসুদ-ফয়সাল মোহামেডান হইসে, তাতে কি? পাকিস্তান মানেই জাত-শত্রু। ক্লাস আবার দুই ভাগ। মাইর হবে শুধু, যত্রতত্র। সামনে পাইলে এক্কেরে জিন্দাপুইত্তালাইবুউউউ।  

আমাদের হাউজ ছিল ৪টা।  বেরুনি-মামুন-ওমর-সালাউদ্দিন। হাউজ ম্যাচের সময় হলে পুরা ক্লাস ৪ ভাগ।  মনে আছে, ক্লাস টেনের হাউজ ম্যাচ ফাইনাল'এর আগের দিন, ঢাকা কলেজের হোস্টেলের সামনে মামুন হাউজের গোপন মিটিঙে ঠাকুরকে দায়িত্ব দেয়া হয় সালাউদ্দিন হাউজের বেস্ট প্লেয়ার আশিকের পা ভেঙ্গে দেয়ার জন্য। ঠাকুর লাল কার্ড পেলেও ব্যাপার না।  আশিক হ্যাজ টু গো আউট অফ দা ফিল্ড। ঠাকুরকে দায়িত্ব দানকারী মামুন হাউজের ক্যাপ্টেন'এর নাম সালেহ - যে কিনা সালাহউদ্দিন হাউজের ক্যাপ্টেন আশিকের বেস্ট ফ্রেন্ড। যদি সত্যি সত্যিই ঠাকুর প্ল্যানমাফিক আশিকের ঠ্যাং ভাঙতে পারত, আমরা সবাই জানতাম যে সালেহই তার কাঁধে ভর দিয়ে আশিককে হাসপাতালে নিয়ে যেত।  

আরেকবার ধুন্ধুমার মাইরপিট করলাম কি নিয়ে জানেন? ভাবলেও হাসি আসে।  আজম খান রিয়াল গুরু? নাকি জেমস? ভুতের গলি আর সেন্ট্রাল রোডের রাস্তায় আমরা লাঠি নিয়ে একদল আরেকদল'কে দৌড়াচ্ছি। একদলের মুখে "রেললাইনের বস্তিতে", আরেকদলের মুখে "রিক্সাওয়ালা"!

"এ" সেকশন ভার্সেস "বি" সেকশনের যুদ্ধ তো রীতিমত বদরের যুদ্ধের মত বিখ্যাত। তখন কিন্তু পুরা "বি" সেকশন একজোট। নো আবাহনী-মোহামেডান বিরোধ, নো হাউজ-হাউজ ঝগড়া। মিশন একটাই - "এ" সেকশনকে ফুটবল ম্যাচে হারাতেই হবে।  নো মার্সি। 

ঠিক ২ দিন পরই কিন্তু এই "এ"-"বি" আবার ভাই-ভাই।  কারণ - নির্মান স্কুল ক্রিকেট। এইবার পুরা স্কুল এক হয়ে সেন্ট জোসেফ বা ধানমন্ডি বয়েজ'কে হারাতে হবে।  সে কি দোস্তি তখন সবার মধ্যে, সে কি ইউনিটি! 

ঠিক পরদিন আবারও... ব্যাক টু ওন ব্যাকইয়ার্ড। হয় ইন্ডিয়া-পাকিস্তান নয়তো "এ"-"বি" মহাযুদ্ধ; খাইসি তোরে, পালাবি কোথায়? ধাম-ধুম, ঠাস-ঠুস।  

........................................


এত কিছু নিয়ে মারামারি করেছি, অথচ সত্যিই মনে পরে না, কখনো আমরা নৌকা ভার্সেস ধানের শীষ'এর কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলেছি। বিশ্বাস করেন, কস্মিনকালেও আমাদের আগ্রহের বা আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে স্থান পায়নি -  কার দাদা নৌকা, কে ধানের শীষ আর কার বাপ লাঙ্গল। সাবজেক্ট হিসেবে এতটাই তুচ্ছ ছিল এসব আমাদের কাছে। 

ভাগ্যিস, শত্রুতা করার মত এত্তোগুলা সাবজেক্ট ছিল আমাদের। নাহলে হয়ত বন্ধুত্বগুলিকে স্কুলেই দাফন করে আসতে হত।  

...................................

এবার ঘটনাটা বলি।  

সেদিন এক আড্ডায় ঢাকার মোটামুটি শীর্ষস্থানীয় এক স্কুলের শিক্ষক বড়ভাই জানালেন, তাদের স্কুলের ক্লাস সেভেনের দুই দলের মধ্যে একটা ইস্যু নিয়ে শুরু হয় ঝগড়া-বিবাদ।  এক পর্যায়ে এই বিবাদে যোগ দেয় অন্য ক্লাসের ছেলেরাও, হাতাহাতি থেকে ঘটনা রক্তারক্তি পর্যায়ে পৌছে যায়। শেষ পর্যন্ত টিচার এবং গার্জিয়ানদের হস্তক্ষেপে অবস্থা যদিও সামাল দেয়া হয়, কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, এই ঘটনার পর প্রতিটা ক্লাস পার্মানেন্ট ভাবে দুইটা ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। দুই দল এখন ক্লাসের দুইদিকে বসে, এক দল আরেক দলের সাথে কথা বলেনা; এবং দুই দলই তক্কে-তক্কে আছে - সুযোগ পেলেই অন্য দলকে চিপায় নিয়ে ডলা দেয়ার। 

ইস্যুটা কি ছিল জানেন? এই ইলেকশনে ভোট চুরি হয়েছে, নাকি ইলেকশন ফেয়ার হয়েছে !!! 

ক্লাস সেভেনের ছেলেগুলিকে এতটা "মাচিউরড" আর "রাজনীতি-সচেতন" করে তোলার জন্যে কাকে ধন্যবাদ দিব, ঠিক বুঝতে পারছিনা। 

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৪

অসাম্প্রদায়িক, সেকুলার জাতি

সিচুয়েশনটা একটু ঠান্ডা মাথায় হজম করার চেষ্টা করুন। 

আপনার রং তো বাদামী, তাই না? না সাদা, না কালো। হঠাত একদিন ঘুম থেকে উঠে শুনলেন, আপনি যে পাড়ায় থাকেন সেটা বাদ দিয়ে গোটা শহরটা দখল করে নিয়েছে সাদা আর কালোরা। শহরের উত্তরদিক নিয়ে নিয়েছে সাদারা,  দক্ষিনদিক কালোরা।

আপনি বললেন - "তাতে সমস্যা কি? আমরা তো একটা অসাম্প্রদায়িক, সেকুলার জাতি, কে সাদা, কে কালো, কে বাদামী - তাতে আমাদের কি এসে যায়?"

আপনি যা শুনলেন তা হলো - "ঘটনাটা তেমন হলে তো ভালই হত। কিন্তু বাস্তবচিত্র তো ভিন্ন। সাদার সাথে কালোর গ্যাঞ্জামে যদি একটা বাদামীকে পোড়ানো যায়, তাহলে কখনো এর লাভ, কখনো ওর। এ নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্চও করতে পারবেন না, একদম গলা টিপে ধরবে। এ নিয়ে কোথাও নালিশও করতে পারবেন না, কে শুনবে আমাদের কথা? হয় পালান, নাহয় চুপচাপ গা'এর রং পাল্টে হয় সাদা হয়ে যান, নাহয় কালো।" 

..........

কি করবেন এখন? বাঁচতে পারবেন এভাবে? ভয়ে ভয়ে? 

..........

অথচ, আমার বন্ধু অমিতাভ বড়ুয়ার রং যা, বাবার বন্ধু কেশব কাকুর রং'ও তাই।  তাদের রং যা, আমার-আপনারও সেই একই রং। আমাদের সবার রং'ই বাদামী। আমাদের সবার হাত কাটলে এক রঙের রক্তই বের হয়। ওরা "সংখ্যালঘু" নাম নিয়ে ভয়ে ভয়ে বাঁচবে, আর আমরা "মেজরিটি" ট্যাগ লাগিয়ে বুক ফুলিয়ে! বাহ, ভালো তো, ভালো না? 

এসব লেখায় কোনো কাজ হবে না, জানি। যারা "মানুষ" তাদের জাগাতে লেখা, গান বা কোনো ইভেন্টের প্রয়োজন পরে না।  আর যারা "অমানুষ", যারা নিজেদের স্বার্থের জন্যে ভাই'এর ঘরে আগুন দেয়, তাদের জাগানো আদৌ সম্ভব কিনা আমি জানিনা। 

এটুকু জানি, এদেশের মাটিতে একজন অমুসলিম ভাই বা বন্ধুর ঘর জ্বললে সেই অন্যায়ের দায় আমি এড়াতে পারি না।  মুসলিম হিসেবেও না, বাংলাদেশী হিসেবেও না।  

সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৪

কালচারাল রেভলিউশন

গোলাপী-গোপালী Rap, বালুর ট্রাক মেগাসিরিয়াল, ভোটকেন্দ্র কমেডি সিরিজ ইত্যাদির পর লেটেস্ট এন্ট্রি - তথ্যমন্ত্রীর জাসদ-বধ কাব্য। 

একখানা নির্বাচন আমাদের যতগুলো হাই কোয়ালিটি এবং রসে টুইটুম্বুর ভিডিও ক্লিপ, অডিও ক্লিপ, কার্টুন আর ফেইসবুক স্টেটাস উপহার দিল - এটাকে একটা কালচারাল রেভলিউশন বা রেনেসা বললেও কম বলা হবে।

একটা সিডিসহ সংকলন বই মেলায় ছেড়ে দিলে বেস্ট সেলার হওয়া কনফার্ম। প্রকাশকগণ, ভেবে দেখতে পারেন।