সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৩

আমার "গণতান্ত্রিক" অধিকার।।

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে আজকে। আম্লিগ বেশরমের মত আনন্দ-মিছিল বের করেছে। করতেই পারে। এটা তাদের "গণতান্ত্রিক" অধিকার। 

বিম্পি-জামাত-চাল্লি-পাল্লি নিয়ে অবরোধ ডেকেছে। নিশ্চয়ই বাস-গাড়ি-সিএনজি পোড়ানোর পুরা প্ল্যান নিয়েই মাঠে নামবে তারা। নামতেই পারে। এটা তাদের "গণতান্ত্রিক" অধিকার। 

কাল থেকে (ইনফ্যাক্ট আজ থেকেই) আমার মেয়ের পরীক্ষা শুরু। স্কুল ডিসাইড করেছে তারা অবরোধের মধ্যেও স্কুল খোলা রাখবে। রাখতেই পারে। এটা তাদের "গণতান্ত্রিক" অধিকার। 

আমি সকাল বেলা আমার মেয়েকে স্কুলে দিতে যাব। গাড়ি নিয়ে। যদি আমার গাড়ির সামনে কোনো পিকেটার পরে, খোদার কসম, চোখ বন্ধ করে গা'এর উপর গাড়ি উঠায়ে দিব। 

উঠাতেই পারি। এটাও আমার "গণতান্ত্রিক" অধিকার।। 



রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৩

রিভিউ - দুলাভাই

রিভিউ - দুলাভাই 

কোনকিছুর মধ্যে অ্যাকশন না থাকলে আমার ভাল্লাগেনা। মারামারি-সাসপেন্স-ওয়ালা মুভি আমার পছন্দ, ফুটবল খেলায় ফাউল-লাল কার্ড না দেখলে পাইনসা লাগে। হার্ড রক-মেটাল ছাড়া গান শুনলেও ঠিক গরম লাগেনা। 


টিভি প্রোগ্রাম করব বলে যখন ঠিক করলাম, তখনও এটাই মাথাতে ছিল। শুধু একটা প্রোগ্রাম করব, কিছু গেস্ট আসবে, খাজুরে প্যাচাল পারব - ব্যাস; প্রোগ্রাম শেষ!!! নোপ্, অ্যাকশন ছাড়া নট পসিবল। তাই "আমরাই বাংলাদেশ"এর প্ল্যান যখন করলাম, এমনভাবেই করলাম যেন প্রতি এপিসোডেই কিছু না কিছু করার মত থাকে; সেটা রক্ত দেয়ায় হোক বা বোতল বাতি নিয়ে ব্রেইনস্টর্মিংই হোক ---অ্যাকশন আমার চাই, নইলে জিন্দাপুইত্তালাইমু!

এই পর্যন্ত ঠিকঠাক ছিল। গত পরশু থেকে তো দেখি আমার ফেইসবুক স্টেটাসের মধ্যেও অ্যাকশন। দুলাভাই ডাকের মাধুর্য নিয়ে একটা স্টেটাস দেয়ার পর থেকে যে হারে কমেন্ট এবং ইনবক্স'এ আগ্রহী শালা-শালী'দের মেসেজ পাচ্ছি, আমি তো পুরাই আবেগে কাইন্দালাইতেসি :'( 

শালা-সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। (ইউ নো, আই অলরেডি হ্যাভ থ্রি) ;) 

অতি শীঘ্রই আমি শালীদের ডাটাবেস বানানোর কাজে হাত দিব। তারপর ইন্শাল্লাহ, এলফাবেটিক অর্ডারে সবার মেসেজ রিপ্লাই করব। 

কথা দিলাম। 



বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৩

দুলাভাই

আমার মা তার বংশের সবচাইতে বড় মেয়ে। বাই ডিফল্ট আমার বাবা হলেন সবচেয়ে বড় দুলাভাই। 

আম্মারা ৬ বোন। সেই সুবাদে আমার বাবার আপন শালির সংখ্যা ৫; আর আম্মার বিশাল কাজিন-বাহিনী ক্যালকুলেট করলে শালির সংখ্যা "অগুন্তি"।

ছোটবেলা থেকে আর কিছু না বুঝলেও এইটা বুঝতাম যে আশেপাশে শালিদের কিচিরমিচির আমার পিতৃদেব বেশ উপভোগ করেন। তাদের খোঁচাখুচি, মস্করা ইত্যাদি আমার দৃশ্যতঃ গম্ভীর শিক্ষক বাবার মুখে একটা পরিতৃপ্তির হাসি নিয়ে আস্ত। 

তখনই ডিসিশন নিয়ে নেই, বিবাহ যখন করিবো, অবশ্যই শালির সংখ্যা গুনিয়াই করিবো। এবং তাহাদের বাধ্য করিব, যেন তাহারা আমাকে অবশ্যই "দুলাভাই" বলিয়া সম্বোধন করে। 

আমার বিবাহ হলো। যৌতুক হিসেবে পেলাম তিন-তিনটি হাট্টা-গোট্টা শালা। শালিসংখ্যা - শুন্য। 

বৌএর কাজিন-বাহিনী'তে কিছু প্রসপেক্ট থাকলেও নিষ্ঠুরের মত তারা সে আশার গুড়েও বালি ঢেলে দিল। সুরে-সুরে "ভাইয়া", "রাজীব ভাইয়া" ইত্যাদি সম্বোধনে আমাকে জর্জরিত করে ফেললো। ধর্মে থাকলে রাখিও পরিয়ে ফেলতে পারত। আমি তাদের এমনি এক "ভাইয়া" হয়ে গেলাম, পারলে আমার বউকেই (মানে তাদের বোনকেই) তারা "ভাবী" বলে ডাকে। ইনফ্যাক্ট আমার এক শালি আমার পুত্র হওয়ার পর ঘোষণা দিয়েছে - "জীয়ন কিন্তু আমাকে খালা ডাকতে পারবে না, আমার ফুপু ডাকতে হবে। আদর করে ফুপস।" 

মনের কষ্ট মনেই রয়ে গেল। চোখের পানি চোখেই যে শুকালো। 

উদ্ধার করতে আবির্ভূত হলেন আমার ডাক্তার ফুপুশাশুড়ি, তিনি তার দুই কন্যাকে শিখালেন আমাকে "দুলাভাই" বলে ডাকতে। আহা, কি মধুর সেই ডাক। একেকবার তারা "দুলাভাই" বলে ডাকে, আমি মনে মনে বলি - "ড্যাড, ইউ হ্যাভ শালী! আই হ্যাভ টু। ইউ আর দুলাভাই, মি দুলাভাই টু। হুহ!" 

পার্থক্য শুধু এক জায়গাতেই। আমার বাবা'র শালিগুলি ছিল কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া। আর আমার একটার বয়স ৫, আরেকটার ৩। ইয়ে, মানে ... জ্বি, দু'জনই আমার মেয়ে জয়ীর চাইতেও ছোট। 

যাই হোক, লেটেস্ট আপডেট দেই।

আজকে খেয়াল করলাম আরো ৮/১০ জন ইদানিং আমাকে বেশ পেয়ার-মহব্বতের সাথে দেখা হলেই হাসিমুখে "দুলাভাই" ডাকা শুরু করেছে। আবেগে কাইন্দানালাইলেও ব্যাপারটা আমি বেশ এনজয় করছি। 

এই ৮/১০ জন হলো আমার শ্বশুরবাড়ির দারওয়ান, কেয়ারটেকার, শ্বশুরের এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের ড্রাইভারবৃন্দ। 

আমি কিন্তু ব্যাপারটাকে পসিটিভ ভাবেই দেখছি। 

ছোট করেই নাহয় হোক, তবু শুরুটা তো হোক ... 

প্রিন্সিপাল আপা

উত্তেজনার বশে আজকে সকালে একটা আকাম করে ফেলসি।

সাত-সকালে মেয়ের স্কুল থেকে এসএমএস আসল - "Dear Parents, school will remain open on Saturday, Nov 23, 2013. Wednesday's routine will be followed. Principal."

হরতাল নিয়ে আমার মাথা মেজাজ এমনিতেই চরম খিচড়ে থাকে। এর মধ্যে শনিবারও সকাল সাড়ে ৬টায় ঘুম থেকে ওঠার এই বেত্তমিস আবদার দেখে মাথায় রক্ত উঠে গেল। সাথে সাথে রিপ্লাই করলাম "আহা, কি আনন্দ। চলেন আমরা সবাই মিলে হরতালকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার ভোরেও ধানমন্ডি লেকের ধারে নৃত্য করি। প্রিন্সিপাল আপা কোরিয়গ্রাফার, আমরা সবাই নৃত্যশিল্পী। ভালো তো! ভালো না?"

এখন চরম টেনশন লাগছে রে ভাই। এই এসএমএস যদি আসলেই প্রিন্সিপাল আপা পর্যন্ত পৌঁছায় !!! বাপের পাপে মেয়ে না আবার চাপে পড়ে যায়!!!

ধুর, এইসব আকাম যে ক্যান করতে যাই আমি??? 

সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৩

আমি যা করি, ১০০% ডেডিকেশনের সাথে করি।

আমি যা করি, ১০০% ডেডিকেশনের সাথে করি। বুজছেন?

এই নেন ব্রেকডাউন:  

-----------------------------------------------------
অ্যাডভার্টাইজিং ২৫%
বউ-বাচ্চা-ফ্যামিলি'র সাথে সময় কাটানো ১৫%
বন্ধুদের সাথে আড্ডা ১৫%
গানবাজনা ৫%
ক্রিকেট খেলা দেখা ৫%
ফটোগ্রাফি ১০%
সাইকেল চালানো (রিসেন্ট হুজুগ) ৫%
ফেইসবুকে স্টেটাসবাজি ৫%
টেলিভিশনে উপস্থাপনা ৫% 
ব্যাডমিন্টন (যেহেতু শীত চলে এসেছে) ৫% 
এদিক-ওদিক ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করা ৫%
-------------------------------------------------------
হইসে না সব মিলিয়ে ১০০%? হুমমমমমম? 

ফলাফল:

এজন্যই আমি সাকিব-আল-হাসানের ফ্যান। সাকিব-আল-হাসান আমার ফ্যান না। 


তানিয়ার মা

হে পরম করুনাময়, 

তুমি তানিয়ার মা'র দিকে একটু মুখ তুলে চাও। তোমার এই অসহায় বান্দি তোমার কাছে সোনা-রুপা-মনি-মুক্তা-হীরা-জহরতের জন্য হাত পাতেনি। বাড়ি-গাড়ি-ধন-সম্পত্তিও তার চাওয়া নয় খোদা।

হে পরওয়ারদেগার,

তানিয়ার মা তোমার দরবারে হাত তুলেছে শুধু একজন মনের মত, সুইটেবল, অ্যাজ-পার-রিকোয়ারমেন্ট কাজের বুয়া প্রাপ্তির আশায়, যে কিনা তোমার আরেক বেবাস-নাচার বান্দি, জয়িতা-জীয়নের মা'র জীবনে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে। 

তুমি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না আল্লাহ, পিলিজ লাগে ... 

[উল্লেখ্য, তানিয়ার মা একজন কাজের বুয়া ম্যানেজ করার এজেন্ট। সুদীর্ঘ ১ মাস ধরে আমার স্ত্রী ৩-বেলা নিয়ম করে এই ভদ্রমহিলাকে ফোন করে যাচ্ছে একটি কাজের বুয়া পাওয়ার আশায়। প্রতিবার ফোন করার আগে সে আল্লাহর কাছে দু'হাত তুলে মোনাজাত করে। খোদার কসম, আমি সাক্ষী।

আল্লাহতা'আলা অতি শীঘ্র তানিয়ার মা'কে একটা ভালো বুয়ার সন্ধান দিক, আমাদের জীবনে আবার সুখ-শান্তি ফিরে আসুক।

আমিন।]

শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৩

সত্যিকারের দেশপ্রেম

এই ব্যাপারটা নিয়ে ঠিক এভাবে আর কেউ ভেবেছে কিনা আমি জানি না। সেদিন আরিফ ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিতে দিতে ব্যপারটা মাথায় আসে। দেখেন তো এভাবে ভাবতে পারলে "দেশপ্রেম" ব্যাপারটা আরেকটু ক্লিয়ারলি বোঝা যায় কিনা। 

মনে করে দেখুন তো বছর ১৫ আগে, সারা বছরে শরীরে লাল-সবুজ পতাকা জড়িয়ে রাস্তায় ছুটে বের হয়ে গলা ফাটিয়ে "বাংলাদেশ, বাংলাদেশ" বলে চিত্কার করার মত অকেশন আমরা কয়বার পেতাম? ২৬সে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বরে বাড়ির ছাদে পতাকা উড়াতাম। সাফ ফুটবলে একবার চ্যাম্পিয়ন হলাম, মনে আছে বড়দের পিছে পিছে সেবার পতাকা নিয়ে মেইন রোড পর্যন্ত গিয়েছিলাম। টেনেটুনে আরো কিছু বাড়ালেও বছরে ৪/৫ বারের বেশি আমাদের সাথে পতাকার দেখা হত না। 

বাকি ৩৬০ দিন পতাকা থাকত ভাঁজ করা অবস্থায়। আলমারির ভেতর। 

আর এখন? দু'দিন পরপরই এখন আমাদের পতাকা জড়াতে হয়। দু'দিন পরপরই "বাংলাদেশ, বাংলাদেশ" বলে চিত্কার করে আমাদের গলা ভাঙ্গে। চোখের পানি, নাকের পানি এক করে আমরা "দেশপ্রেম"এর জোয়ারে ভাসি। 

১৬ কোটি মানুষের জীবনে যারা বারবার লাল-সবুজ পতাকা ফিরিয়ে এনেছে, "দেশপ্রেম" যদি শিখতে হয়, চলুন তাদের কাছ থেকেই শিখি। পিচ্চি-পিচ্চি এই ছেলেগুলি ক্যামনে পারে বারবার, আমাদের এভাবে হাসাতে? এভাবে কাঁদাতে? 

আজকে রাতে আমরাই বাংলাদেশে আমার সাথে থাকছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর নাসির হোসেন।

কথা হবে ওদের সাথে, "সত্যিকারের দেশপ্রেম" নিয়ে। রাত ১১টায়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে।