রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৩

বিলবোর্ড-তত্বের ব্যাকগ্রাউন্ড-তথ্য


বিলবোর্ড-তত্বের ব্যাকগ্রাউন্ড-তথ্য [কল্পনাপ্রসূত]

একদিন, জায়গামত।

- "বস, বিম্পির রাজপুত্ররা যা যা ধরসে, সবকিছুকে আমাদের বরবাদ করে ফেলতে হবে।"
~ "ঠিক কইসস, ফার্স্ট'এ তাইলে আমরা কি বরবাদ করবো?"
- "বস, ছোট রাজপুত্র বিলবোর্ড'এর ব্যবসা করতো" 
~ "ঠিক কইসস, লেট্স ফুক অল দা বিলবোর্ডস"

[অতঃপর সব বিলবোর্ডকে রেপ করা হলো]

~ "তারপর?"
_ "বস, বড় রাজপুত্র খাম্বার ব্যবসা করতো "
~ "ঠিক কইসস। লেট্স ফুক দা খাম্বা'স নেক্সট" 

[অপেক্ষায় থাকুন ... নিরীহ খাম্বাগুলোর কি দশা হয় দেখার জন্য]

শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৩

এইচএসসি'র রেসাল্ট আর বন্ধু-দিবস


এইচএসসি'র রেসাল্ট আর বন্ধু-দিবস:

আমাদের সময়ে ল্যাবরেটরি স্কুলে "এ" সেকশন ভার্সেস "বি" সেকশনের গ্যান্জাম খুব কমন একটা ব্যাপার ছিল। (আমরা অনেক খারাপ ছিলাম; "সি" সেকশন আর মর্নিং শিফটের পোলাপানদের আমরা মানুষ বলেই মনে করতাম না।)  স্কুলের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আমরা "এ" সেকশনের ছেলেদের জাত-শত্রু ভাবতাম। এখন ব্যাপারটা যতই সিলি লাগুক তখন এটাই জীবন-মরণ ইসু ছিল। আমাদের "বি" সেকশনের ইফতেখার "এ" সেকশনের পোলাপানের সাথে বেশি মিশত দেখে ওকে মোটামুটি জাতীয় বেইমান টাইপ উপাধিতেও ভূষিত করা হয়েছিল। অবশ্য আমার এই লেখার মূল চরিত্র ইফতেখার না। 

যাই হোক, আমরা ল্যাবরেটরি স্কুলের সবাই দল বেঁধে ঢাকা কলেজে ভর্তি হলাম; এবং কলেজের ২ বছর'ও আমরা সগৌরবে "এ-বি" বিরোধ চালিয়ে গেলাম। কলেজে পড়াশোনা ছাড়া যা যা করা যায়, ২ বছর জুড়ে আমরা মন দিয়ে সবই করলাম। আচমকাই এইচএসসি পরীক্ষা চলে আসল। সীট পড়ল সরকারী বিজ্ঞান কলেজে। হাজার দোআ-মানতের পর'ও লাভ হলো না, আমার সীট পড়ল শত্রু সেকশনের জিয়ার পাশে। মোটামুটি কনফার্ম হলাম, এই শালার কাছ থেকে কোনো হেল্প আশা করাটা পুরাপুরি বোকামি। জিয়া অল-থ্রু ভালো স্টুডেন্ট, এসএসসি'তে স্ট্যান্ড করা ভালো ছেলে; শত্রু সেকশনের ছেলে বলে স্কুলের ৮ বছর প্লাস কলেজের ২ বছরেও আমাদের তেমন বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে নি। 

পরীক্ষা শুরু হলো। বিস্ময়ের পর বিস্ময় উপহার দিতে থাকলো জিয়া। প্রশ্নের উত্তর বলে দিয়ে, খাতা দেখিয়ে, পারলে আমার খাতায় লিখে দিয়ে হেল্প করতে থাকলো আমাকে। বিজ্ঞান কলেজের অডিটরিয়ামের একটা মোটা পিলারের পিছনে সীট পড়ায় আমি বেহেশতী সুখে পরীক্ষা দিতে লাগলাম। যেখানে ফার্স্ট ডিভিশন নিয়ে সন্দেহ ছিল, পরীক্ষা শেষে ষ্টার মার্কস পাওয়ার স্বপ্ন'ও দেখতে শুরু করলাম - সব'ই জিয়ার কল্যানে। রেসাল্ট দিল, ভয়ে ভয়ে কলেজে গেলাম। সব বন্ধুরা ভরাডুবির শিকার; আর আমি পাপী জঘন্য রকম ভালো রেসাল্ট করে ফেলেছি। ৯০৭ মার্কস, একটুর জন্য স্ট্যান্ড মিস। লজ্জার মাথা খেয়ে দেখি  ....  জিয়ার নাম্বার আমার থেকে কম। (আমি চোর হতে পারি, কিন্তু আমার হাতের লেখা সুন্দর। তাই মনে হয় যেই স্যার খাতা দেখেছে, সে মনে করেছে, আমি অরিজিনাল, আর জিয়া কপি। হি হি।)

বেহায়ারও লজ্জা থাকে। জিয়া'কে খুঁজতে লাগলাম সরি আর থাঙ্কস দুইটাই বলার জন্যে। শালা আবারও আমাকে অবাক করলো; আমার রেসাল্ট নিয়ে ও এতই বেশি উচ্ছাস দেখাতে লাগলো (ট্রাস্ট মি, উচ্ছাসটা ১০০% জেনুইন ছিল), যে আমার মত নির্লজ্জ'ও বিব্রত ফীল করতে শুরু করলো। সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম, জিয়া আসলে মানুষ না, সাক্ষাত ফেরেশতা। 

উপসংহার:
১। "এ" সেকশন থেকেও ভালো বন্ধু হওয়া পসিবল 
২। আমার "বি" সেকশনের বন্ধুরা, আল্লাহর কসম লাগে, তোরা বিশ্বাস কর, জিয়া না থাকলে আমিও তোদের মত ধরা খাইতাম। আমি চোর হতে পারি কিন্তু বেইমান না। তোরা যখন আড্ডা শেষে বাসায় গিয়া ঘুমাইসোস, আমিও ঘুমাইসি। লুকায়া লুকায়া পড়ি নাই; বিশ্বাস কর। 
৩। সবাইকে উপদেশ, পড়াশোনায় ফাঁকি দিও না; সবার কপালে ফেরেশতা জোটে না। 
৪। জিয়ার নম্বর আমার মোবাইলে "জিয়া ফেরেশতা" নামেই সেভ করা। 

জিয়া দোস্ত, ভালো থাকিস। আমার বউ-বাচ্চার সাথে তোর এখনো দেখা না হলেও, এই গল্প ওরা কয়েকশো বার শুনে মুখস্থ করে ফেলেছে। একদিন তোর বউ-বাচ্চাকেও এই গল্পগুলা শুনাবো। ইনশা-আল্লাহ। 

সবাই'কে বন্ধু-দিবসের শুভেচ্ছা। 

কোপ


কোপ:

বেশ কিছুদিন আগে ধর্ম নিয়ে কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠির বাড়াবাড়ি দেখে আমরা কয়কজন মিলে একটা গান করেছিলাম, নাম "ধর্ম"; যারা আমার কাছের মানুষ, তারা বললো, কাজটা উচিত হয় নাই; আমাকে নাকি জামাত-শিবিররা এসে কোপাবে। 

রাজাকারদের ফাঁসি দেয়ার ব্যাপারে বিএনপির বেশরম অবস্থান নিয়ে একবার কিছু বললাম, একদল সিদ্ধান্তে পৌছে গেল যে আমি আসলে আওয়ামীলীগের ছুপা সাপোর্টার। যারা আমার কাছের মানুষ, তারা এবার বললো, এ কাজটাও নাকি ঠিক হয় নাই, এবার নাকি বিএনপি আমাকে কোপাবে। 

কালকে স্টেটাস দিলাম, টিভির খবরে বলেছে, সজীব ওয়াজেদ জয়'এর ফেইসবুক স্টেটাস'এ নাকি ২ ঘন্টায় ২ হাজারের বেশি লাইক পড়েছে - এটা নিয়ে। কাছের মানুষরা আবার চিন্তিত - এই কাজটাও নাকি ঠিক হয় নাই; আমি নাকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে কটাক্ষ করেছি।  মর জ্বালা। এবার নাকি আওয়ামিলিগ এসে আমাকে কোপাবে। একটু আগে গ্রীন রোড থেকে বনানী আসতে আসতে ৫০টারও বেশি (১০০টাও হতে পারে) নতুন বিলবোর্ড দেখলাম; এই সরকারের গুনগান-সম্বলিত "তথ্যে" ভরপুর, এবং"সারপ্রাইজিংলি"  বিলবোর্ডগুলো মালিক বড় বড় কর্পোরেট হাউজগুলি। ওরা নিশ্চয়ই "ভালোবেসে" এগুলো সরকারকে ধার দিয়েছে। এখন এটা নিয়ে স্টেটাস দিলেও হয়ত আমার কপালে কোপ কনফার্ম; কি বলেন কাছের মানুষরা? 

তাও ভালো ছিলো, বড় বড় সব দলবল আমাকে কোপাবে, নিজেকে বেশ কেউকেটা মনে হচ্ছিল। পরশু একটা "নিষ্পাপ" স্টেটাস দিলাম, বারিধারায় একটা গাড়ি রাত দুপুরে ভো-ভো করে আওয়াজ করে সবার ঘুম হারাম করে - তা নিয়ে। আমেরিকা থেকে এক বড় বোন ইনবক্স করলো "বেশি বাড়িস না ভাইয়া, এসব গাড়ি-ওয়ালাদের বিশ্বাস নাই, কি দরকার এদের পিছনে লাগার?" অন্তর্নিহিত অর্থ হলো - এই রাম-ছাগল ভো-ভো গাড়িওয়ালাও নাকি আমাকে কোপাতে আসতে পারে। 

কাছের মানুষদের ভালবাসা আর কনসার্ন'এর ঝোলে পুরা জাতির মেরুদন্ড যে পুতুপুতু হয়ে যাচ্ছে, সে খেয়াল কি কেউ করছেন? 

(এমনিতেই ফেইসবুকে ভয়ে ভয়ে থাকি, সুন্দর মেয়েদের ছবিতে লাইক বা কমেন্ট করতে গেলেই মগজে গায়েবী আওয়াজ শুনি, "মামা, বেশি বাড়িস না, বউ আসতেসে দাও নিয়া ... কোপাইতে।")

*** রাম-ছাগলটাকে কিন্তু এখনো পাওয়া যায়নি। ভূত-থেকে-ভূতে চলতে থাকুক, কি বলেন? 

শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৩

রামছাগলের ভো-ভো গাড়ি


ইদানিং বারিধারায়, একটা রাম-ছাগল, রাতের বেলা ভয়ংকর আওয়াজ করতে করতে গাড়ি চালায়। রাম-ছাগলটাকে কি কেউ চেনেন?

কাল রাত ১১টার দিকে বারিধারায় বন্ধুর বাসায় আড্ডা দিচ্ছি। কিছুক্ষণ পরপরই চমকে উঠছিলাম রাস্তা থেকে আসা একটা গাড়ির স্কীড করার প্রচন্ড শব্দে। বুঝলাম বুদ্ধি-শুদ্ধি লোপ পাওয়া বড়লোক বাপের একটা রাম-ছাগল সন্তান রাত দুপুরে গাড়ির শো-ডাউন করতে বের হয়েছে। ১২টার দিকে যখন বাসায় ফেরার জন্য বের হলাম, তখনও বালকটা ভো-ভো করে বারিধারা চক্কর কাটছিল।  একবার ভাবলাম কিছুক্ষণ ওয়েইট করি, সামনে দিয়ে গেলে গাড়ি থামিয়ে দুইটা রাম-থাবর লাগাই। বেশি রাত হয়ে যাচ্ছিল দেখে ওয়েইট করাও হলো না, থাবরটাও দেয়া হলো না। 

ফেইসবুক খুব সুন্দর একটা "ভূত-থেকে-ভুতে" মিডিয়াম। ছড়াতে ছড়াতে এই লেখাটা হয়ত ওই রাম-ছাগল বা তার পরিচিত কারো চোখে পরেও যেতে পারে। তার কাছে আমার কিছু কথা পৌছাবার আছে:
১। রমজান মাসে রাত ১২টা মানে অনেক রাত। ধর্মপ্রাণ মানুষ সারাদিনের রোজা আর রাতের তারাবি শেষ করে বিছানায় যায় একটু তাড়াতাড়ি, কারণ সেহরী করতে ভোর রাতে উঠতে হয়। এই ঘুমটা তাদের জন্য খুব জরুরি। 
২। যেকোনো বাসাতেই অসুস্থ, বৃদ্ধ আর শিশু থাকতে পারে।
৩। যে বিকট আওয়াজ তুমি তোমার গাড়ির পশ্চাদ্দেশ দিয়ে ছাড়ছো, তাতে যে কারোরই রাতের ঘুম হারাম হতে বাধ্য। দুর্বল্চিত্ত্ব মানুষের হার্ট এটাক হওয়াটাও অস্বাভাবিক না। 
৪। দয়া করে এই ছাগলামি'টা বন্ধ করো, রাম-থাবর যেদিন চোপায় পড়বে, গাড়ি থেকে না - অন্য কোথাও থেকে ভো-ভো আওয়াজ বের হবে। 

শেষ কথা: 
আব্বুর নিশ্চয়ই অনেক টাকা আছে, তাকে গিয়ে বল গাড়িটা ঠিক করে বা বদলে দিতে। ৩০ মাইল স্পীডের ধোয়া ছাড়তে থাকা ভো-ভো গাড়ির ড্রাইভার'কে স্মার্ট বলে না রে - রামছাগল বলে। 

(রামছাগল খুঁজতে কেউ যদি এই স্টেটাসটি শেয়ার করতে চান, অনুমতির প্রয়োজন নাই) 

বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৩

ঈদের পাঞ্জাবি

বউ: তোমার ঈদের পাঞ্জাবি হয়ে গেছে। দর্জির দোকান থেকে তুলে আইনো।
আমি: বাহ্, জোশ। যাক, নতুন ২/৩টা ভালো পাঞ্জাবী হয়ে গেছে আমার। পুরানোগুলা বের করে দিব নে, গরীব মানুষদের দিয়ে দিও। 
বউ: (উইথ এ ঝামটা) তোমার মত মোটা-তাজা গরীব মানুষ পাব কোই আমি, যে পাঞ্জাবী দান করব? 
.
.
মাননীয় স্পিকার, আমার এই লেখাতে কেউ যদি শ্রেনিবিভেদের গন্ধ পেয়ে "গরীব" শব্দটি এক্সপাঞ্জ করতে চান, আমার আপত্তি নাই। কিন্তু মাননীয় স্পিকার, "মোটা-তাজা" বলে এভাবে কটাক্ষ করে কিন্তু আমার বউ'ও একই ভাবে শ্রেণীবিভাজন-দোষে-দুষ্ট। সুতরাং, আমারটা এক্সপাঞ্জ করা হলে তারটাও করতে হবে। 

গরীবের কষ্ট গরীব তো বোঝেই, বড়লোকরাও মাঝে মাঝে বোঝে। কিন্তু মোটার দুঃখ কে বোঝে বলেন? কে কে কে? 

সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৩

চার-চক্ষু


হাইট যেন আমারটা পায়, তুমি তো পুইট্টা...
স্কিন তোমারটা পেলেই ভালো; আমার স্কিনের অবস্থা জঘন্য ...
তোমার চোখ সুন্দর, আমারটা পিটিপিটি - সো, চোখ তোমারটা হলেই আমি খুশি ...
চুলও তোমারটা পাক, আমার তো অলমোস্ট টাক ...
সর্বনাশ, সবই তো তোমার দিকে চলে যাচ্ছে, আনফেয়ার।
ওকে, মাথা যেন আমার মত হয়, ক্রিয়েটিভ, অনেক ক্রিয়েটিভ। যদিও শয়তানিগুলা একটু কম পেলেই ভালো ....
আমার মত ফ্রেন্ডলি হোক, যেন সবার সাথে মিশতে পারে ...
সেন্স অফ হিউমারও আমার মত হওয়া উচিত ...
তোমার শপিং'এর বাতিকটা না পেলেই চলবে ...
ওভারল তোমার চেহারা পেলে আপত্তি নাই আমার, তোমার চেহারা খারাপ না ;) 

মেয়ে হওয়ার পর কত কিছুই না চেয়েছিলাম আমাদের মেয়েটাকে নিয়ে! একটা জিনিস চাইতে মনে ছিল না। মেয়ের মা'র কখনো চশমা লাগেনি, আর আমি চার-চক্ষু :( 

গতকাল ডাক্তার বলল, মেয়ে আমার এই ক্ষেত্রে বাবার পিছুই ধরেছে। 

ভালো লাগছে না, ধুর। যদিও মেয়ে আমার অনেক খুশি। 

পোলাও


পোলাও বিষয়ক স্টেটাস: 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন নিজ হাতে রেধেছেন, নিশ্চয়ই পোলাও সুস্বাদু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই জানেন তেল কতটা দিতে হয়, নুন কতটা, পানি কতটা -  তেজপাতা কতটা দিলে সঠিক তেজ হয়। এলাচি, দারচিনি, পেঁয়াজ, রসুন --- নিশ্চয়ই বাজার থেকে বেছে বেছেই সবচাইতে ভালো জিনিসগুলোই তাঁর জন্যে কেনা হয়েছে। হাজার হোক, প্রধানমন্ত্রী বলে কথা! উনি চাইলেই কিন্তু বেস্ট জিনিসগুলি হাতের কাছে চলে আসে, শুধু উনি চাইলেই। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভা তৈরী করা ব্যাপারটা কিন্তু অনেকটা পোলাও রান্নার মতই। একেকটা মন্ত্রী একেকটা উপকরণের মতই। নুন যদি বেশি হয়ে যায়, পোলাও হবে বিস্বাদ। আবার নুনের বদলে যদি চিনি দিয়ে ফেলেন, তাহলে কিন্তু পুরাই বরবাদ। টেলিযোগাযোগের কাজ কি আর নাইটগার্ড দিয়ে হয়? নাকি ছাগল দিয়ে হয় দারওয়ানের কাজ? আবার ধরেন, আপনি জানেন যে ঘী'টা নষ্ট, একদম দুর্গন্ধ ছড়ানো নষ্ট - এখন আপনি যতই বলেন না কেন যে ঘী সম্পূর্ণ নির্দোষ, লাভ আছে? গন্ধ কি লুকানো যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? তেলের ব্যাপারটাও কিন্তু ইম্পরট্যান্ট। বেশি তেল দিয়ে একটা তেল-চুপচুপে পোলাও রাধা যায়, ভালো পোলাও রাধা যায় না। মন্ত্রীসভাও মনে হয় একটু বেশি তেল-চুপচুপে? অবশ্য আমি ভুলও হতে পারি। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একটা রেসিপি প্রকাশ করবেন নাকি? নির্বাচনের রাজনীতি আপন গতিতে চলতে থাকবে। তত্বাবধায়ক নাকি অন্তর্বর্তীকালীন - বিতর্ক চলবেই। ক্ষমতায় কিন্তু হয় আপনি আসবেন, নাহয় ম্যাডাম - অন্য কারো চান্স কিন্তু  দেখছি না। তাই বলছিলাম, নৌকা যদি আবার ক্ষমতায় আসে, মন্ত্রীসভা'টা কাদের নিয়ে হবে - আগে থেকে জানা থাকলে খারাপ হত না কিন্তু। নেক্সট ৫ বছর কেমন স্বাদের পোলাও আমাদের কপালে আছে সেটা বুঝে ভোটটা দিতে পারতাম। আপনি যদি রেসিপি প্রকাশ করেন তাহলে আমরা ওপর পক্ষকেও তাদের নামগুলো প্রকাশ করতে অনুরোধ করতে পারি। বুদ্ধিটা ভালো না? 

শেষে দু'টি কথা:
১। প্রধানমন্ত্রী চাইলেই কিন্তু বেস্ট জিনিসগুলি হাতের কাছে চলে আসে। বেস্ট মানুষগুলিও।
২। কেউ হয়ত এতক্ষণ খেয়ালও করেন নি, পোলাও রান্নার মূল উপাদান - চালের কথা কিন্তু একবারও বলা হয়নি। কেনই বা হবে? চাল তো হলো জনগণ। থাকলেই কি, না থাকলেই কি? 

একদম শেষ কথা - দু'জনের জন্যই:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় বিরোধীদল নেত্রী, আমি বিশ্বাস করতে চাই, যে, আপনারা দু'জন অন্তত জনগনের কথা ভেবেই ভালো মন্ত্রীদের বেছে নেবেন। পঁচা-গন্ধ তেল দিয়ে রাঁধলে ভালো চালও একদিন হাল ছেড়ে দিবে।