শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৩

আমরাই বাংলাদেশ 2,3

2
জানেন, এই দেশে একদিন সুপারম্যান আসবে। ড্রেস'এর উপর লাল রঙের আন্ডু পরে। তারপর ওনার পিছন পিছন স্পাইডারম্যান, আয়রনম্যান, ব্যাটম্যান সবাই আসবে। তারপর তারা আপনার-আমার দেশটার সব সমস্যার সমাধান করে দিবে।

ওদের ঠ্যাকা তো!

এভাবে হয় না রে ভাই, অন্যের আশায় বসে থাকলে কিছুই বদলাবে না। ছোট হোক বড় হোক, কিছু ভালো কাজ করতেই হবে। 

দেশটা তো আমাদেরই তাই না? 

আমরাই তো বাংলাদেশ। 



3
একটা জিনিস খেয়াল করেছেন? যে কোনো কিছু নিয়েই যে আমরা এখন কমপ্লেইন করি! সরকার এমন করলো ক্যান? বিরোধী দল এমন করলো না ক্যান? অমুকের নিশ্চই মাথা খারাপ হয়েছে, তমুক বেশি বেড়ে গেছিল। আড্ডায়, ফেইসবুক'এ সবার কথা শুনলে মনে হয়, প্রত্যেকেই যেন হাতি-ঘর মেরে ফেলছে প্রতিদিন। 

মশারির ভিতর মশা ঢুকলে আমরা কিন্তু অপেক্ষা করি না, কখন পুলিশ এসে মশা মেরে দিয়ে যাবে, অথবা সিটি কর্পোরেশন লোক পাঠাবে মশার ওষুধ ছিটাতে। মশা আমরাই মারতে পারি। এবং মারি'ও।  এমন অনেক ইসু আছে যেগুলার সমাধান আমরা নিজেরাই করতে পারি - যদি সবাই মিলে এক সাথে কাজ করি। 

দেখবেন নাকি একটু ট্রাই করে?

দেশটা তো আমাদেরই তাই না? 

আমরাই তো বাংলাদেশ। 



আমরাই বাংলাদেশ 1


আমাদের দেশের চারিদিকের সকল সমস্যা সমাধান এর জন্য এগিয়ে হবে আমাদের সবাইকে একসাথে।
দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে আমাদের সবার। রুখে দাড়াতে হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুধ্যে .
আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে একদিন স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ, সৃষ্টি করতে হবে নতুন ইতিহাস  ...

(pause ৫ সেকেন্ড)
এইটা কার লেখা রে ভাই ? এসব থিওরিটিকাল কথা শোনার টাইম কার আছে এখন? 

(pause ৫ সেকেন্ড)
ভালো কথা এখন আর ভালো লাগেনা, আশার কথা শুনলে রাগ লাগে। স্বপ্ন দেখতেও এখন আমরা ভয় পাই আমরা। 

কিন্তু তাই বলে কি কিছুই  করার নাই আমাদের? 

ইতিহাস তো বলে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখনি নাকি ফুসে ওঠে সবাই। দেয়ালে পিঠ ঠেকতে আর কত বাকি আমাদের? 

চলুন কিছু একটা করি, একসাথে - সবাই মিলে। ছোট কিছু দিয়েই নাহয় শুরুটা করি, তবুও কিছু একটা তো করি। 

দেখি না কিছু হয় নাকি। দেশটাতো আমাদেরই তাই না?

আমরাই তো বাংলাদেশ।

বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

তাঁবু


দুই বন্ধু হাইকিং করতে গেছে। রাত হয়ে যাওয়ায় তারা পাহাড়ের উপর তাঁবু খাটিয়ে তার ভিতর ঘুমিয়ে পড়ল। মাঝরাতে একজনের ঘুম ভেঙ্গে গেল, রাতের খোলা আকাশ দেখে মুগ্ধ হয়ে সে বন্ধুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলল। শুরু হলো দুই বন্ধুর কথোপকথন:

প্রথম বন্ধু: আকাশটা দেখলি?
দ্বিতীয় বন্ধু: (বিশাল দীর্ঘশ্বাস) দেখছি রে। খুব সুন্দর। অসাধারণ
প্রথম বন্ধু: বল তো এই আকাশ আমাদের কি বলছে?
দ্বিতীয় বন্ধু: (আরো বিশাল দীর্ঘশ্বাস) দোস, তুই বল, আমি শুনি।
প্রথম বন্ধু: এসট্রনমিক্যালি, আকাশ আমাদের বলছে, যে আকাশটায় আমরা তাকিয়ে আছি, তাতে কয়েক মিলিয়ন গ্যালাক্সি, কয়েক বিলিয়ন গ্রহ-উপগ্রহ আছে। এসট্রলজিক্যালি বললে বলতে হয়, শনি আজকে বৃহস্পতিকে সাথে নিয়ে মঙ্গল কিছু করার কথা ভাবছে। থিওলজিক্যালি, এই আকাশ প্রমান করে যে ঈশ্বর কত বিশাল আর আমরা তার কাছে কত তুচ্ছ। মেটেওরোলজিক্যালি, কাল আমাদের জন্য একটা সুন্দর হাস্যজ্বল দিন অপেক্ষা করছে। আর যদি তুই সময় জানতে চাস, আকাশ বলছে, এখন রাত সারে তিনটা বাজে।
দ্বিতীয় বন্ধু: (মুগ্ধ হয়ে) দোস, তুই কত জ্ঞানী, তোর কথা শুনে আমি বারবার মুগ্ধ হয়ে যাই।

প্রথম বন্ধুর ঠোঁটের কোণে গর্বের হাসি ফুটে ওঠে।

গাছের আড়াল থেকে এক চোর তাদের কথা শুনে মনে মনে বলে, "পুরাই মাননীয় স্পিকার হয়ে গেলাম! কত বড় বলদরে ভাই এই দুই'টা। মাথার উপরের তাঁবু চুরি করে ফেললাম, আর এদিকে আকাশ দেখে একজন জ্ঞানের লেকচার দিস্সেন, আরেকজন মুগ্ধতার লালা ঝরাস্সেন!"

------------------------------------------------
প্রথম বন্ধুর পরিচয়: উনি একজন টকশো'র গেস্ট।
দ্বিতীয় বন্ধুর পরিচয়: উনি টকশো'র রেগুলার দর্শক। আপনার, আমার মত।

বলুন তো, চোরটা কে?

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৩

মান্যবর



আচ্ছা, এই মান্যবরগণ আসলে কারা? ঢাকা শহরে কিছু বিলবোর্ড দেখছি, দু'টি সুদর্শন পুরুষ পরস্পরের কোমর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ভেবেও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে শিওর হতে  পারলাম না। তাই আপনাদের শরণাপন্ন হলাম। 

এরা দুইজন কি ভাই? কোনদিন কোনো ভাইয়ের কোমর জড়িয়ে ধরে ছবি উঠিয়েছি বলে মনে পড়ছে না। কি বলিস আমার ভায়েরা? 

নাকি বন্ধু?  কিন্তু দোস্তরা, আমরা তো কোনদিন এরাম করে ফুটু তুলি নাই। আমরা কি তাহলে ব্যাকডেটেড? হায় হায়!

শালা-দুলাভাই হতে পারে; আসলে হয়ত তারা কোমর জড়িয়ে ধরে নাই, একজন আরেকজনের পকেট মারছে। বিলবোর্ড'টা আরো ভালো করে খেয়াল করতে হবে।

বাবা-ছেলে হতে পারে না, দু'জনের বয়স তো একই সমান মনে হলো। স্টেপ-ফাদার অবশ্য হতেই পারে।

শ্বশুর-জামাই, বস-চাল্লি, নাপিত-কাস্টমার, মালিক-ড্রাইভার ... নাহ, কোনো সম্পর্কই ঠিক ম্যাচ করছে না ছবিটার সাথে। 


প্রশ্নটা কি তাহলে প্রশ্নই থেকে গেল - এই মান্যবরগণ আসলে কারা?

বসে আছি

অফিসে আসতে আসতে রেডিও শুনছি আর একটা ভালো গানের আশায় চ্যানেল সুইচ করছি। একটা চ্যানেলে আটকে গেলাম, "বসে আছি" চলছে। মনটাই ভালো হয়ে গেল, আঙ্গুল দিয়ে স্টিয়ারিং হুইলে তবলা বাজাতে বাজাতে হালকা হেডব্যাঙ্গিং করতে করতে "বসে আছি" শুনতে থাকলাম। গান শেষ হতেই তব্দা! মোটা, গুরুগম্ভীর গলায় কবিতা আবৃতি টাইপ স্টাইলে এক ভদ্রলোক উপস্থাপনা শুরু করলেন - 

"এতক্ষণ আপনারা উপভোগ করলেন এ সময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মিজানের কন্ঠে বসে আছি গানটি। গানটি লিখেছেন (২ সেকেন্ড পজ) ওয়ারফেজ এবং সুর করেছেন (আবারও ২ সেকেন্ডের পজ এবং তারপর গলা আরো ভারী করে) ওয়ারফেজ। বন্ধুরা এখন আমরা চলে যাচ্ছি পরের গানে ..... "

সরকারী-রেডিও-ঘরানার কিছু কিছু "কথাবন্ধু কেন জানি "ব্যান্ড" ব্যাপার'টাকে ঠিকমত বুঝতেই পারে না।
আজব!

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৩

গরুর পাছা


(লেখাটা একটু বড়, চেষ্টা করেও ছোট করতে পারলাম না। সরি।)

স্কুলের ঘটনা। সিক্স বা সেভেনে পড়ি। বছর শুরুতে ক্লাস রুটিন দিল। দেখি নতুন এক স্যার'কে দুই-দুইটা সাবজেক্ট দিয়ে রেখেছে - ইংরেজি আর সমাজ। স্যারের স্বভাব-চরিত্র নিয়ে নানারকম জল্পনা-কল্পনা শুরু হলো। পুরা এক বছর সহ্য করার ব্যাপার, টেনশন না? এক সোর্স ইনফরমেশন দিল স্যার নাকি জল্লাদের ফোটোকপি, আগে যে স্কুলে ছিল সেখানে  নাকি বেতিয়ে শ'খানেক ছেলেকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আরেক সোর্স থেকে খবর আসলো স্যার নাকি পুরাই পানিভাত। এসব গুজুর-গুজুর-ফুসুর-ফুশুরের মধ্যেই স্যার ক্লাস নেয়া শুরু করলেন।

সপ্তাখানেক পার হলো; স্যারের মধ্যে কোনরকম জল্লাদিপনা দেখতে পেলাম না। ভয় কেটে যেতে শুরু করলো, আমরাও ধীরে ধীরে তার ক্লাসে "সোজা হও" থেকে "আরামে দাঁড়াও" মোডে উন্নীত হলাম। বিশ্বাস করতে শুরু করলাম - স্যার আসলেই পানিভাত। সবকিছু ঠিকঠাক মতই চলছিলো ...

একদিন স্যার ক্লাসে থাকা অবস্থাতেই আমাদের ইতরামি-ফাইজলামি চূড়ান্ত লেভেলে পৌঁছালো। স্যার দুই-একবার হাঁক দিলেন, আমরা পাত্তা দিলাম না - পানিভাতের আবার কিসের গরম! কিন্তু হঠাতই স্যার তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। সামনে তাকাতেই দেখলেন মাসুদ নির্লজ্জের মত খ্যাক-খ্যাক করে হাসছে। চোখে না আছে অপরাধবোধ, না আছে কোনো ভয়-ডঢ়। স্যার সিংহের মত হুংকার দিলেন "এই বেয়াদব ছেলে, এদিকে আয়।"

স্যারের গলার ভলিউম শুনে আর স্যারের লাল চেহারা দেখে পুরা ক্লাস মোটামুটি হিসুফাইড। মাসুদের কান ততক্ষণে স্যারের হাতে, স্যার থরথর করে কাঁপছেন। কান ছাড়লেন, বাম হাত থেকে ঘড়ি খুলে টেবিলের উপর রাখলেন, তারপর ফুলশার্টের হাতা গুটাতে শুরু করলেন। চশমা খুললেন, সেটাও টেবিলে রাখলেন। পুরা ক্লাসে পিন-ড্রপ-সাইলেন্স। ক্লাসের সবচাইতে বলদ ছেলেটারও বুঝতে বাকি নাই, যে স্যার আসলেই জল্লাদের ফটোকপি। স্যার কাঁপতে কাঁপতে মাসুদের দিকে লাল চোখে তাকিয়ে বললেন ...

"বে---আ----দ----ব---কো----থা---কার ... নি---র্ল---জ্য---বে----হা----য়া----আ---- আ------"

আমরা মোটামুটি শিওর যে একটা লাশ পড়তে যাচ্ছে।

"যাআআআআ, তি-ই-ই-ই-ই-ন বার কান ধরে উঠ-বোস কর"

(তিনবার কান ধরে উঠ-বোস!!!!! আর ইউ কিডিং???? আমরা সরকারী বয়েজ স্কুলের বান্দর পোলাপান। এমন সব জায়গায় মারত স্যাররা, বাসায় গিয়ে আব্বা-আম্মাকে দেখাতে পারতাম না। তিনবার কান ধরে উঠ-বোস করা ইস লাইক ..... পানিভাতও না)

রেসাল্ট (তাত্ক্ষণিক): তব্দা ভাব কাটতে মাসুদের লাগলো ৩ সেকেন্ড, তারপর ৩ সেকেন্ডে ৩ বার কান ধরে উঠ-বোস। কুইকি:) আবার খ্যাক-খ্যাক হাসি।
 
রেসাল্ট (লং টার্ম): চরম রাগে লাল হয়ে যাওয়া স্যারের দাড়িওয়ালা মুখটার সাথে ক্লাসের কেউ একজন গরুর পশ্চাদ্দেশের মিল খুঁজে পেল। এরপর থেকে স্যারের নামই হয়ে গেল "গরুর পাছা"।

সোনামনিরা, বলোতো গল্পটা থেকে তোমরা কি শিখলে?

১। যখন বড় শাস্তির ভয় থাকে তখন ছোট শাস্তি পেলে সেটাকে শাস্তি মনে হয় না। আদর মনে হয়।
২। যদি তুমি বাঘ না হও, তবে হুংকার দিও না। বান্দর পোলাপান তোমাকেও "গরুর পাছা" ডাকতে পারে।

রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৩

সাভার


এবার সাভার। তারপর কোথায়?

গ্রীন রোড কবে? বনানী কবে?

কোন বিল্ডিং'এর কাচামালে ভ্যাজাল নাই? সব বিল্ডিং'এ আছে। মানে, আপনার-আমার মাথায় ছাদ ভেঙ্গে পরা শুধু সময়ের ব্যাপার।

বিল্ডিং'এর দোষ দিয়ে কি লাভ? আপনার-আমার কার চরিত্রে ভ্যাজাল নাই? ১০০% অনেস্ট ভাবে কেউ কি জীবন কাটাই আমরা?

আজ আমাদের পাপে সাভার চাপা পড়ল।
কাল হয়ত অন্য কারো পাপে আমরা মারা পরবো।

সাভারের ক্ষতিগ্রস্থদের আল্লাহ ধৈর্য দিন, সাহস দিন।

আমীন।

April 24