রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৩

কল ফর ডিউটি

সাভার'ই কি শেষ? আর কখনো এমন গজব নাজিল হবে না?

যাদের কারণে বিল্ডিং ধ্বসলো, দুর্ভাগা এই মানুষগুলোকে নিজে যারা রাজনীতি খেললো, খুনীগুলিকে আশ্রয় দিয়ে যারা এখনো প্রকাশ্যে বেহায়ার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে - তারা যে "মানুষ" না, সেটা নিয়ে মনে হয় কারোরই কোনো সন্দেহ নাই। আমি চিন্তিত সত্যিকারের মানুষগুলিকে নিয়ে, যারা মৃত্যু-ভয়কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বাঁচিয়ে এনেছে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে। কিন্তু ওরা আর কত করবে? এবং ওরাই বা কেন বার বার করবে?

জানি, ওরা পরের বার'ও করবে। ওরাই ছুটে যাবে আবার গজব আসলে। বেহায়াগুলো তখনও বেহায়াপনা'ই করবে। কিন্তু আমি-আপনি কি করব? এই সাহসী মানুষগুলোর মত হয়ত মৃত্যুকূপে ঝাঁপ দিতে পারব না (সত্যি বললাম বুকে এত জোর আমার নাই), কিন্তু পরের বার নিশ্চয়ই শুধু টিভি দেখে দেখে চোখের পানি ফেলবো না। ভুল থেকে যে শিক্ষা নেয়, সেই নাকি "মানুষ"। এবারের ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে যেন পরের বারের জন্য রেডি থাকতে পারি, সাহসি এই মানুষগুলির কাজ যেন একটু হলেও সহজ করে দিতে পারি।

আমাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, পরের বার যেন আমরা সবাই জানি কার কি কাজ। ফায়ার ব্রিগেড'এর ক্ষমতা কতখানি, আর্মির মাঠে নামতে কত সময় লাগে, মুহুর্তের মধ্যে ওষুধ, টর্চ, কাফনের কাপড় কোথায় পাওয়া যায়, হ্যাক স দিয়ে হাত কাটার মত কলিজা কার কার আছে - সব জানা থাকা উচিত। ভুল থেকে এবার শিখলাম, একটা ডাটাবেস কত জরুরি - দেশ-ভর্তি মানুষ টাকা নিয়ে রেডি, জানে না কোথায় দিতে হবে টাকা, অসহায় বাচ্চাগুলোকে দত্তক নেয়ার মানুষেরও অভাব নাই, কিন্তু সবাই হয়ত শুধু একটা বাচ্চার কথাই জানে। যারা টাকা তুলছে, তারাও বুঝতে পারছে না, কার আসলে কতটা সাহায্য দরকার। কারো কারো নাম আছে সবার ডাটাবেস'এ, কারো নাম হয়ত কোনো ডাটাবেস'এই নাই। পরের বার যেন আমরা প্রস্তুত থাকি রে ভাই, প্রথম থেকেই যেন সঠিক একটা ডাটাবেস আমরা তৈরী করার মত মানুষ রেডি রাখতে পারি।

একটা মোটামুটি বড়-সড় গ্রুপ কালকে একসাথে হয়েছিল, ঠিক-ঠাক মত কাজ করার ভালো একটা উদ্দেশ্য নিয়ে। সাভার থেকেই যাত্রা শুরু, সাভার-ভিকটিম 'এর একটা কম্প্রিহেন্সিভ ডাটাবেস তৈরী করাই আপাতত প্রধান উদ্দেশ্য, আগ্রহী সবাই যেন এখান থেকে ঠিক তথ্যটা জানতে পারে। যার কাছে যা ইনফরমেশন আছে সব এক জায়গায় কম্পাইল করার কাজ শুরু হয়েছে, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল দুপুর নাগাদ এই গ্রুপটা আত্মপ্রকাশ করবে। এখানে যে যেভাবে খুশি কন্ট্রিবিউট করতে পারবে, এখানে কোনো রাজনীতি নাই, দলাদলি নাই। উদ্দেশ্য দুইটা - ১। সাভারের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলো যেন সত্যি সত্যি সাহায্য পায়, ২। পরের বার যেন আমরা এবারের মত অপ্রস্তুত না থাকি।

আমি আশাবাদী, ভালো এই উদ্যোগটাতে আমরা অনেক অনেক "মানুষ" দেখতে পাব।


April 30

Language

Majhe majhe young generation'er language shekha'r jonno ami gopon'e tader profile'e uki-jhuki dei. Ajke'o temon heavy smart ek meye'r thumbnail "people you may know" te dekhe click kora'r lobh'ta shamlate parlam na.

Meye'r profile pic'e dekhi shisha khawa'r chhobi, mukh diye mashallah besh bhaloi dhowa ber hochhe, meye'ta ke'o besh hot lagchhe. erpor nich'er comment gula pora shuru korlam...

Prothom comment: awwhhh dos, xorom xotilzzzz, ummaah
Deetio comment: r u smoke?
Tritio comment: wtf! &%$%#*^* y u no call mah babeh???

Beche thakle ek din inshallah ami'o smart hobo. Inshallah.

নাস্তিকের মৃত্যু


এই প্রথমবার আমি হতাশ হচ্ছি, অনেক ভয়ও পাচ্ছি। না, জামাত-শিবির চোরা-গুপ্তা হামলা করছে বলে না, এই খুন'টা যে শেষ খুন না- সেটা বুঝেও না; আমি হতাশ হচ্ছি আমাদের তরুণ প্রজন্মের রিয়াকশন দেখে। এরাই আমাদের প্রগতিশীল তরুণ প্রজন্ম? একটা মানুষকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হলো, আর হাজার হাজার মানুষ সে "নাস্তিক" ছিল বলে তাকে মেরে ফেলার যথার্থতা প্রমানে ব্যস্ত!!! এই তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আমরা দিন বদলের স্বপ্ন দেখি? সরি ভাই, আমি সত্যি আর কোনো আশার আলো দেখছি না।

যদি কেউ আমার সাথে একমত না হোন, দয়া করে আমার এই স্টেটাস'এ কেউ নিজের "আস্তিকতা" প্রমাণ করতে আসবেন না। কোনো কথা না বলে ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে বিদায় করে দিব। যারা "নিজের মত প্রকাশের অপরাধে" একটা মানুষের খুনকে সাপোর্ট করেন, আমার স্টেটাস'এ "মত প্রকাশ করার" কোনো অধিকার আমি তাদের দেই নাই।

ভাই রাজীব, ৯৬ ব্যাচের অনেকের সাথে আমার পরিচয় আছে, তোর সাথে হয়ত কখনো দেখা হয় নাই। তুই বেহেশতে যাবি, নাকি দোজখে, তার বিচার করবে আল্লাহ-তা'আলা, আমরা সেটা নিয়ে কথা বলার কে? মাফ করে দিস ভাই। তোর অনেকগুলো মহাজ্ঞানী ভাইয়ের হয়ে আমিই নাহয় ক্ষমা চেয়ে নিলাম।

আমার নামও রাজীব !

ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়সে, আমিও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়সি;

ও Laboratorian , আমিও laboratorian ;

ও ইন্টারনেট'এ লেখালেখি করত, আমিও লেখালিখি করি;

ও রাজাকারের বিচার চেয়েছিল, আমিও রাজাকারের বিচার চাই;

ওর অন্তরে ছিল শাহবাগ, আমার অন্তরেও শাহবাগ;

ও নাস্তিক, আমি বিশ্বাসী মুসলমান;

তাই আমি খুন হলে বুদ্ধিজীবি, আর ও খুন হলে "ইনসাফ"!!!

আমার ধর্ম এমন সংকীর্ণমনা না যে এমন হীন চিন্তাকে উত্সাহ দেয়. আমি আমার ধর্ম নিয়ে গর্ব করি, যারা ধর্মের ভুল ব্যাক্ষা দিয়ে মানুষকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করে, আমি তাদের ঘ্রীনা করি.

ওর নাম ছিল রাজীব, আমার নামও রাজীব !



16 February 2013

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৩

পেঁ হারানোর বেদনা

মাইলসের গানগুলিতে শাফিন ভাইয়ের উচ্চারণ আর স্টাইল নিয়ে অনেক মজার গল্প প্রচলিত আছে। আমি আমার গল্পটা বলি।

"ফিরিয়ে দাও" গানটা যখন প্রথম শুনলাম, তব্দা খেয়ে গেসিলাম। শাফিন ভাই গাইছেন "পেঁ হারানোর বেদনায়, পুড়ে চলেছি সারাক্ষণ ..."; আমার তো হাসতে হাসতে পেট ব্যথা। স্টাইলের চোটে "প্রেম হারানোর বেদনা" হয়ে গেছে "পেঁ হারানোর বেদনা" ... যতবারই গানটা শুনতাম, একা একা হাসতাম।

বেশ কিছুদিন আগে একটা টিভি শো দেখে জানতে পারলাম, লিরিকটা নাকি "প্রেম হারানোর বেদনা" ছিল না;  ছিল "পেয়ে হারানোর বেদনা" .... তার মানে শাফিন ভাই'ই ঠিক ছিল, আমিই বেশি পাকনামি করতে গিয়ে ধরা খাইসি। 

বুধবার, ১০ জুলাই, ২০১৩

মসজিদের মাইকিং আগ্রাসন-বিরোধী স্টেটাস


সেহরী খেতে উঠে দেখি আব্বার মেজাজ হট। মসজিদের মাইক সারারাত ঘুমাতে দেয় নাই। সেহরী করতে করতেও কিছুটা টের পেলাম - "মুসুল্লিগন, আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি, আপনারা তাড়াতাড়ি সেহরী করে নেন"... "আর মাত্র ১৫ মিনিট বাকি"..."১০"... "৫".... ইট্স আ ফাইনাল কাউন্টডাউন ...

শুনলাম, ২ ঘন্টা আগের এনাউন্সমেন্টটা ছিল "মুসুল্লিগন, আপনারা যারা রান্না করবেন, তারা ঘুম থেকে উঠেন, সময় পার হয়ে যাচ্ছে। পরে আর রান্না'র টাইম পাবেন না।" 

আব্বাকে চেতানোর জন্য আরো কিছু আইডিয়া মসজিদ কমিটিকে দিব কিনা ভাবছি ...
১। রাত ১০টায়: আপনারা যারা সেহরিতে উঠবেন, তারা এখনি ঘুমাতে চলে যান। পরে কিন্তু আর ঘুমাতে পারবেন না ...
২। রাত ১১টায়: যারা এখনো জেগে আছেন, তারা দয়া করে ঘুমাতে যান ... 
৩। ... ৪। ... ৫। .... (প্রতি ঘন্টায় একটা করে রিমাইন্ডার ... না ঘুমায়ে যাবি কোই?)
৪। ফজরের আজানের আগে আগে: যারা মসজিদে নামাজ পড়তে আসবেন, দয়া করে তারা অজু করতে যান। পরে কিন্তু পানি নাও পাইতে পারেন।
৫। যারা ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখছেন যে সেহরী'তে যদি উঠতে না পারেন, তাদের বলছি, আপনারা টেনশন নিয়েন না, আমরা আপনাকে ঠিকই জাগিয়ে দিব। ভরসা রাখেন। 
৬। মুসুল্লিগন, যারা আমাদের মাইকের আওয়াজ ঠিকমত পাচ্ছেন না, আপনাদের মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে "সাউন্ড বাড়ান" টাইপ করে পাঠিয়ে দিন ০০০০০ নাম্বারে। আমরা প্রয়োজনে নতুন মাইক কিনবো। তবুও আপনাদের কানে মসজিদের বাণী পৌছে দিব ইনশাল্লাহ। 

(ভাই, থামেন, আমার বাপ'টারে একটু শান্তিমত ঘুমাতে দেন। এখন ৮০০ টাকা দামের মোবাইল ফোনেও এলার্ম ঘড়ি থাকে।  এই যুগে কেউ যদি সেহরী মিস করে, সে এমনেও করবে, অমনেও করবে। .... বাই দা ওয়ে, দয়া করে এটাকে কোনো ইসলাম-বিরোধী স্টেটাস বলে ত্যানা পেচাবেন না। এটি মসজিদের মাইকিং আগ্রাসন-বিরোধী স্টেটাস।) 

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩

তানিয়া এবং মইন


আমার বন্ধু'র বউ গেছে কাটাবনের পশুপাখির দোকানে। গল্পের খাতিরে ধরে নেই তার নাম তানিয়া। একটা পেট কেনার ইচ্ছা তার অনেক দিনের। এ দোকান ও দোকান ঘুরতে ঘুরতে হঠাত একটা পাখির দিকে নজর আটকে গেল। কি সুন্দর একটা টিয়া পাখি! কি সুন্দর তার রং! কাছে গিয়ে দেখে খাঁচার গা'এ দাম লেখা: ৫০ টাকা। তানিয়া তো অবাক, এই পাখির দাম এত কম কেমনে হয়!!! দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলো "মামা, শূন্য কি একটা বাদ পরেছে নাকি?" মামা বলে "না ম্যাডাম। এই পাখির একটু ঝামেলা আছে। ব্যাংকক থেকে আমদানি। আগে মনে হয় কোনো বাজে জায়গায় থাকত। মানুষ দেখলে মাঝে মাঝে অশ্লীল কথা বলে ফেলে। তাই এটা'রে কেউ কিনতে চায় না।"

তানিয়া চিন্তায় পরে গেল। একদিকে দোকানদারের সাবধানবাণী, আরেকদিকে পাখির অপূর্ব রূপ। শেষ পর্যন্ত কন্ট্রোল করতে না পেরে ৫০ টাকা দিয়ে পাখিটা কিনে বাসায় নিয়ে আসল সে। 

নতুন বাসায় নতুন জায়গায় পাখির খাঁচা ঝুলিয়ে রাখা হলো। তানিয়াকে অবাক করে দিয়ে পাখি বলে উঠলো "সোআদি খা-আ-আ, নিউ ম্যাদাম, নাইস বদি-ই-ই"। এ আর এমন কি খারাপ কথা, তানিয়া ভাবে; যাক, পাখিটা কিনে তাহলে ভুল হয় নি। 

বিকাল বেলা তানিয়ার ছোট বোন আর তার দুই বান্ধবী বেড়াতে এলো। তাদের দেখেই পাখি কথা বলে ওঠে, "সোআদি খা-আ-আ, নিউ নিউ গার্ল, ভেরি ইয়াং, নাইস  বদি-ই-ই" । "আল্লাহ, কি কিউট পাখি, অঅঅ, কুটুকুতুকুটু" - মেয়ে মহলে আল্লাদিপনার বন্যা বয়ে যায়। তানিয়া তো গর্বে গর্বফাইড। যাক, পাখিটা কিনে বিশাল একটা ভালো কাজ'ই হয়ে গেছে। 

সন্ধা বেলা হাসব্যান্ড মইন বাড়ি ফিরল; মহা উত্সাহে তানিয়া তাকে টিয়া পাখি দেখাতে নিয়ে গেল।

টিয়া পাখি হাসব্যান্ড'কে দেখেই চিত্কার "হ্যালো মইইইইইইন, হাউ আর ইউউউউউউ। লং টাইম নো সিইইইই"....



[এই তানিয়া এবং মইন চরিত্র'দুটি নিতান্তই গল্পে ব্যবহৃত দু'টি নাম। বাস্তবের সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নাই]